ইজরায়েলে পরপর মিসাইল হানা, অবশেষে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলো ইরান

১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছে ইরান, যদিও তার আগে ইসরায়েলে চালানো হয়েছে আরও এক দফা ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলের শহর বে’র শেভার একটি আবাসিক ভবনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই ঘটনায় কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। প্রকাশিত ভিডিওতে (যার সত্যতা উত্তরবঙ্গ সংবাদ যাচাই করেনি) দেখা যাচ্ছে, হামলার তীব্রতায় ভবনটি এবং তার সামনে রাখা গাড়িগুলি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই ভয়াবহতার পরই আয়াতুল্লাহ খামেনেইয়ের দেশ ‘শত্রুতা বন্ধের’ ঘোষণা দিয়েছে।

সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর ঘোষণা অনুসারে, মঙ্গলবার ভোর থেকে ইরানের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল এবং ১২ ঘণ্টা পর ইসরায়েলের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে। কিন্তু ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান ইসরায়েলে হামলা চালায়, যা ইরানের সংবাদমাধ্যমও নিশ্চিত করেছে। এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল যখন বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হচ্ছিল।

বে’র শেভায় হামলার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে ‘শত্রুতা বন্ধের’ ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, “ইজরায়েল যদি আক্রমণ বন্ধ করে, তবে তেহরানের আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই।” এই মন্তব্যকে অনেকে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব হিসেবে দেখছেন। তবে, এই সংঘাত বন্ধের বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।

একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা, অন্যদিকে ইরানের শেষ মুহূর্তের হামলা এবং ইসরায়েলের নীরবতা – এই সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি কি সত্যিই কার্যকর হবে, নাকি এটি কেবলই একটি সাময়িক বিরতি? হামলার ঘটনা এবং তারপর ইরানের ‘শত্রুতা বন্ধের’ ঘোষণা, এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইসরায়েল এখন কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ।