“ইরানের সামনে এখন ২টি রাস্তা খোলা…”-যুদ্ধের হুঙ্কার দিয়ে চরম হুঁশিয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। এই আকস্মিক অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরান পাল্টা আক্রমণ করে, তবে তাদের আমেরিকার “শক্তিশালী সামরিক প্রদর্শনের” জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। পরিস্থিতি এখন এতটাই নাজুক যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতীয় সময় রবিবার সকালে হোয়াইট হাউসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টিম হিসেবে কাজ করেছি আমরা। এবার ইরানের কাছে দু’টো রাস্তা খোলা, হয় শান্তি নয় চরম পরিণতি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা সবেমাত্র কয়েকটি জায়গাকে নিশানা করেছি। আরও বাকি রয়েছে। ইরান যদি এরপরও শান্তিচুক্তিতে রাজি না হয়, তবে আমেরিকা আরও বড় হামলা চালাবে।” ট্রাম্পের এই বার্তা থেকে স্পষ্ট যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, হামলার সময় লাইভ ওয়াররুমে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তাঁর পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “ট্রাম্প যা করে দেখালেন, ইতিহাস এর জন্য তাঁকে স্মরণে রাখবে।” ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল এবং এই হামলায় তাদের উদ্বেগ অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে, আমেরিকার এই সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে তেহরান থেকে এসেছে কঠোর প্রতিক্রিয়া। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম আমেরিকার উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিয়েছে, “এর শেষ দেখে ছাড়ব।” শুধু তাই নয়, ইরান আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, “পশ্চিম এশিয়ায় থাকা প্রতিটি আমেরিকান নাগরিক ও সেনা এ বার থাকবে আমাদের নিশানায়।” এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান স্বার্থের উপর সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আরও নষ্ট করতে পারে।
এদিকে, বিশ্ব মঞ্চে এই সামরিক সংঘাতের প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের সেক্রেটারি জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার বলপ্রয়োগ দেখে তিনি “আশঙ্কিত”। গুতেরেস অবিলম্বে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সমস্ত সদস্য দেশকে উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তিস্থাপনের বার্তা দিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি পশ্চিম এশিয়ার জন্য “আরও ভয়াবহ” হয়ে উঠতে পারে এবং পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণের বাইরে” চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে, যা আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি। এখন দেখার বিষয়, ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়।