বৃষ্টি মাথায় করেই ভোট দিতে আসছেন সাধারণ মানুষ! এমন বুথ এই প্রথম কালীগঞ্জে

৮০ নম্বর কালিগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ময়দানে জয়-পরাজয়ের হিসেব ছাপিয়ে এক অন্যরকম গল্প লিখছে চট্টগ্রাম কলোনী প্রাথমিক বিদ্যালয়। নিছক একটি ভোটকেন্দ্র নয়, এই প্রাঙ্গণ যেন আজ সাম্য আর সহাবস্থানের এক জীবন্ত ছবি। নির্বাচন কমিশনের দূরদর্শী উদ্যোগে এখানে যে ‘আদর্শ মডেল বুথ’ গড়ে উঠেছে, তার ১৬৫ নম্বর কক্ষটি এক নীরব বিপ্লবের সাক্ষী। এই বুথটি সম্পূর্ণরূপে পরিচালিত হচ্ছে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের দ্বারা—এক সাহসী পদক্ষেপ যা গণতন্ত্রের মূল সুর, ‘সকলের জন্য সমান সুযোগ’, তাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে।
সকাল থেকে কালিগঞ্জের আকাশ কালো করে মেঘ জমলেও, বৃষ্টির ধারা এখানকার ভোটারদের উৎসাহকে বিন্দুমাত্র দমাতে পারেনি। বরং, ছাতা মাথায়, কেউ বা সামান্য ভিজেই সারি বেঁধেছেন বুথের সামনে। কারণ তাঁরা জানেন, আজকের ভোটদান শুধু তাঁদের জনপ্রতিনিধি বাছাই নয়, একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশীদারিত্ব। বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য এই কেন্দ্রে যে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তা যেন গণতন্ত্রের উদারতাকে আরও বিস্তৃত করেছে।
কেন্দ্রের ভিতরে যেমন সুষ্ঠুভাবে ভোটপ্রক্রিয়া চলছে, বাইরে তেমনই নিরাপত্তার চাদরে মোড়া গোটা এলাকা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং রাজ্য পুলিশের চৌকস আধিকারিকদের সতর্ক উপস্থিতি নিশ্চিত করছে নির্বিঘ্ন ভোটদান। কিন্তু এই কড়াকড়ি ছাপিয়েও যে বার্তাটি বারবার উচ্চারিত হচ্ছে, তা হলো মানবিকতার।
চট্টগ্রাম কলোনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই মডেল বুথ কেবল ভোটগ্রহণের একটি কেন্দ্র নয়। এটি বিশেষভাবে সক্ষমদের অন্তর্ভুক্তি, তাঁদের দক্ষতা এবং সমাজের প্রতি তাঁদের অবদানের এক স্পষ্ট বার্তা। প্রশাসনের এই উদ্যোগ কেবল ভোটারদের কাছে নয়, গোটা সমাজকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, প্রকৃত গণতন্ত্র তখনই সম্ভব যখন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ, তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা নির্বিশেষে, সমান অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে অংশ নিতে পারে। কালিগঞ্জের এই ভোটগ্রহণ, তাই শুধু একটি উপনির্বাচন নয়; এটি যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক এক নতুন সমাজের স্বপ্ন বুনছে, যেখানে সক্ষমতা নয়, যোগ্যতা আর মানবিকতাই শেষ কথা বলবে।