“সবাই বলেছিল এই ছেলে গোল্লায় গেছে, এখন ৩টিরও বেশি বাড়ি…” নিজের সাফল্য নিয়ে মুখ খুললেন রাজা

টলিপাড়ার জনপ্রিয় দম্পতি রাজা গোস্বামী এবং মধুবনী গোস্বামী তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি ভ্লগের মাধ্যমে অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। আর এর জেরেই মাঝে মাঝেই তাঁদের পড়তে হয় কটাক্ষের মুখে। বিশেষ করে মধুবনীর সাম্প্রতিক কিছু পোস্ট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই রাজা গোস্বামী নিজেদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরেছেন, যা নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
বুধবার রাজা তাঁর এবং মধুবনীর কয়েকটি ছবি সমাজমাধ্যমে শেয়ার করে লিখেছেন তাঁদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, পরীক্ষার ফলই জীবনের শেষ কথা বলে না। রাজা লিখেছেন, “মাধ্যমিকের স্টার পাবার পর যখন উচ্চমাধ্যমিকে সেকেন্ড ডিভিশন পেয়েছিলাম তখন আত্মীয় পরিজন পাড়া প্রতিবেশী সবাই বলেছিল ‘এ ছেলের আর কিছু হবে না’ গোল্লায় গিয়েছে। তবে আজকের তারিখে ইশ্বরের কৃপায়, মা বাবার আশীর্বাদে, তোমাদের ভালোবাসায় মধুবনী আর আমার কলকাতার বুকে ১টা নয়, ২ টো নয়, ৩টে নয় যাক গে কতগুলি সম্পত্তি আমাদের নাই বা বললাম।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ওঁরা বুঝতে পারেননি স্কুলের পরীক্ষার রেজাল্ট আর জীবনের পরীক্ষার রেজাল্ট সব সময় নাও মিলতে পারে.. এক আর এক দুই না হয়ে কখনও কখনও ১১ ও হয়। জীবনে কখনও কখনও লজিক নয় ম্যাজিক কাজ করে।পুনশ্চ: আমার মতো নিতান্ত সাধারণ যদি নিজের স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে পারে, তাহলে তোমরাও পারবে।”
রাজার এই পোস্টটি দ্রুতই নেটিজেনদের নজরে আসে এবং মিশ্র মন্তব্যে ভরে ওঠে। কেউ কেউ রাজার এই বক্তব্যকে সমর্থন করলেও, কেউ কেউ আবার তাঁর সম্পত্তির প্রকাশ্য উল্লেখ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “আপনি কে চিনি না। কমেন্ট পড়ে মনে হল সিরিয়াল করেন বোধ হয়। আমিও কমেন্ট না করে পারলাম না। প্রতিবেশীরা ঠিকই ছিল অন্ততঃ আপনার ক্ষেত্রে। কোন সুশিক্ষিত মানুষ এভাবে নিজের সম্পত্তির বড়াই করে না। শাহরুখকে দেখুন শিখুন।”
তবে অনেকেই রাজার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। আরেকজন লিখেছেন, “একদম ঠিক পরীক্ষার রেজাল্ট আর জীবনের রেজাল্টে আকাশ পাতাল পার্থক্য। স্কুল কলেজে ফার্স্ট হওয়া অনেক ছেলে হয়তো এখন চপ ভাজছে। আর ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চে বসা ছেলেটা হয়তো খুব ভালো চাকরি করছে। স্কুল কলেজের রেজাল্ট দেখে মানুষ কে সব সময় বিচার করা ঠিক না।”
অন্য একজন অনুরাগী দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, “মানুষ সৎ পথে উপার্জন করলে সফলতা আসবেই আর সেই সফলতা দ্বিগুন বৃদ্ধি পাবে। ভালো থেকো তোমরা। এই ভাবেই সফলতা অর্জন করো।”
রাজা ও মধুবনীর এই পোস্ট আবারও প্রমাণ করল যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত জীবনের প্রকাশ একদিকে যেমন অনুরাগীদের কাছাকাছি নিয়ে আসে, তেমনি সমালোচনার দুয়ারও খুলে দেয়। তবে এই বিতর্কের মাঝেই রাজা এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন – জীবনের সাফল্য কেবল পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করে না, বরং নিজের স্বপ্ন পূরণের অদম্য ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।