DA মামলায় ‘কোমর ভাঙছে’ রাজ্যের? সরকারের কোটি কোটি টাকা ‘খরচ’ বাঁচানোর চাবিকাঠি ছিল কর্মীদের হাতেই

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মামলা বছরের পর বছর ধরে আদালত থেকে আদালতে গড়িয়েছে। এই মামলা পরিচালনার জন্য রাজ্য সরকারের দামী আইনজীবীদের পিছনে কোটি কোটি টাকা ‘খরচ’ হলেও, শুরুতেই আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব ছিল বলে দাবি করেছেন মামলাকারী কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমরা রাজ্যকে বুঝিয়ে বলতে পারতাম। রাজ্যের সুবিধা মতোই কীভাবে টাকা দেওয়া যায়, তার পথ বাতলে দিতে পারতাম।”
পঞ্চম বেতন কমিশন অনুযায়ী বকেয়া মহার্ঘ ভাতা ইস্যুতে মলয় মুখোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, সরকারি কর্মীরা শুধু নিজেদের ডিএ নিয়েই ভাবেন না, রাজ্য সরকারের আর্থিক পরিস্থিতির কথাও মাথায় রাখেন। তাঁর কথায়, “কর্মচারী সংগঠনের নেতৃত্ব আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র বের করতে ইচ্ছুক ছিল।” যদি এই আলোচনা হতো, তাহলে মামলার পিছনে রাজ্য সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ বেঁচে যেত বলে তিনি মনে করেন।
মলয় মুখোপাধ্যায় আরও জানান, কর্মরতদের ক্ষেত্রে প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা জমা দেওয়া এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ১২টি মাসিক কিস্তিতে পেনশন-এর সাথে বকেয়া মেটানোর মতো বাস্তবসম্মত প্রস্তাব রাজ্য সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই পথে না হেঁটে, বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে এবং রায়ের ব্যাখ্যা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। তাঁর মতে, এটি আদতে “সময় নষ্ট করার কৌশল”।
তিনি বলেন, “রোপা রুলস অনুযায়ী ডিএ প্রদানের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের অজানা নয়। তাই নতুন করে সেখানে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না।” সরকারের এই মনোভাবে কর্মীরা হতাশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মলয় মুখোপাধ্যায়ের দাবি, আলোচনার মাধ্যমে যে সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল, সরকার একতরফাভাবে তা আইনি লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাঁর মতে, এই একতরফা সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, তেমনই রাজ্যের কোষাগারের ওপর আইনি লড়াইয়ের বাড়তি চাপ পড়ছে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে আছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কর্মীদের বকেয়া ডিএ মামলা। সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত যে মামলাটি চলছে, সেটা পঞ্চম বেতন কমিশন সংক্রান্ত। ২০১৬ সাল থেকে এই মামলা চলছে এবং এটি স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (স্যাট), কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসেছে। প্রথমে স্যাটে জয় পেয়েছিল রাজ্য সরকার, কিন্তু তারপর থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা জয় পেয়েছেন।
কর্মচারী নেতার এই মন্তব্য নতুন করে ডিএ বিতর্কে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে আইনি লড়াইয়ের খরচ এবং কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।