অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ২৫০ জন হজযাত্রী! লখনউতে অবতরণের সময় বিমানে ধোঁয়া ও আগুন

রবিবার ভোরে লখনউয়ের চৌধুরি চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ২৫০ জন হজযাত্রী। সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমান (ফ্লাইট এসভি ৩১১২) অবতরণের সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটির সম্মুখীন হয়, যার ফলে বিমানের বাঁ দিকের চাকা থেকে ধোঁয়া এবং আগুনের স্ফুলিঙ্গ দেখা যায়। তবে পাইলটের দ্রুত পদক্ষেপ এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় সকল যাত্রী ও কর্মী নিরাপদে নেমে আসতে সক্ষম হন।

ভোরবেলার আতঙ্ক
জানা গেছে, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের এই ফ্লাইটটি শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে জেদ্দা থেকে রওনা দিয়েছিল। রবিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ এটি লখনউ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণের পরপরই বিমানবন্দরের আধিকারিকরা লক্ষ্য করেন, বিমানের বাঁ দিকের চাকা থেকে অস্বাভাবিকভাবে ধোঁয়া এবং আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছে। বিপদ আঁচ করতে পেরেই পাইলট দ্রুত কন্ট্রোল রুমে বিপদের সংকেত পাঠান। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে, বিমানটিকে সঙ্গে সঙ্গে রানওয়ে থেকে সরিয়ে এনে ট্যাক্সিওয়েতে নিয়ে যাওয়া হয়।

দ্রুত পদক্ষেপ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
বিমানের জরুরি অবস্থা বুঝে তৎক্ষণাৎ বিমানবন্দরের এমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফোম ও জল ব্যবহার করে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর একে একে সমস্ত ২৫০ জন যাত্রী এবং বিমান কর্মীদের নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কারও কোনো আঘাত লাগেনি।

ত্রুটির কারণ ও কর্তৃপক্ষের স্বস্তি
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিমানের হুইল অ্যাসেম্বলিতে আকস্মিকভাবে হাইড্রলিক তরল লিক করার কারণে অতিরিক্ত ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘর্ষণের ফলেই উচ্চ তাপ উৎপন্ন হয়, যা ধোঁয়া এবং স্ফুলিঙ্গের মূল কারণ। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই যান্ত্রিক ত্রুটি যদি উড়ান চলাকালীন বা টেক-অফের সময় ঘটত, তাহলে একটি বড় ধরনের বিপদ ঘটার আশঙ্কা ছিল।

এই ঘটনায় সাময়িকভাবে আতঙ্ক ছড়ালেও, লখনউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের পেশাদারিত্ব ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হয়েছে। জেদ্দা থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে আসা এই বিমানটি যাত্রীবিহীন অবস্থায় সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।