“নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭৪!”-বিমান দুর্ঘটনায় মৃত যাত্রীদের সঙ্গে নাম জুড়ল হতভাগ্যদেরও

বৃহস্পতিবার আমেদাবাদের মেঘানিনগরে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI171-এর ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা কেবল আকাশেই নয়, মাটির বুকেও এঁকে দিল এক বিয়োগান্তক ট্র্যাজেডির রক্তাক্ত চিত্র। প্রাথমিক তথ্যে বিমানের ২৪১ আরোহীর সবাই নিহত হওয়ার খবর এলেও, সেই মৃত্যুমিছিল আরও দীর্ঘ হচ্ছে। অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাস্থলে থাকা আরও ৩৩ জন সাধারণ মানুষ এই বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন, ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭৪ জন।

দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি বি জে মেডিকেল কলেজের হস্টেলের ছাদে আছড়ে পড়েছিল। আছড়ে পড়ার মুহূর্তে ঘটেছিল এক বিরাট বিস্ফোরণ, যার প্রভাবে বিমানের জ্বলন্ত অংশ চারিদিকে ছিটকে পড়ে। এর জেরে হস্টেলের বাসিন্দারা ছাড়াও ওই এলাকায় থাকা সাধারণ মানুষও এই দুর্ঘটনার শিকার হন। অসমর্থিত সূত্রে খবর, বিমানের ২৪১ জন যাত্রী ছাড়াও এই ঘটনায় আরও ৩৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে গতকাল ২৯ জনের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার একমাত্র জীবিত যাত্রী হিসেবে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন বিশ্বাস কুমার রমেশ। তবে তার এই বেঁচে থাকা বাকিদের মর্মান্তিক পরিণতির চিত্রকেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

প্রসঙ্গত, ১২ জুন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুরে আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড়েছিল এআই ১৭১ নম্বরের এই বিমান। বিমানে ২৩০ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক, ৭ জন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান। বিমান উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই বড়সড়ো বিপর্যয় ঘটে।

এই ঘটনার পর গতকাল জখমদের সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে, যা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। আহমেদাবাদের এই ঘটনা ভারতের বিমান পরিবহন ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হলো।