ইরান-ইসরায়েল চরম উত্তেজনা, ফোনে কী কথা হলো নেতানিয়াহু-মোদির?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের খবরে তিনি “উদ্বিগ্ন” বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, এই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁকে ফোন করে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। এই প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “আমি এই ইস্যুতে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি এবং জোর দিয়েছি যে এই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা জরুরি।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ভারত এই সংঘাতের বিস্তার চায় না এবং সমাধানের পথ খুঁজছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এক পোস্টে তারা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত রাত থেকে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট বিশ্ব নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেছেন। এই তালিকায় জার্মান চ্যান্সেলর, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট রয়েছেন। শিগগিরই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানানো হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ইসরায়েল এই সংঘাতের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।

শুক্রবার ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছিল এবং দাবি করেছিল যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির কেন্দ্রগুলি তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল। এই হামলার পরই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে।

ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর আগে খবরে প্রকাশিত হয়েছে, তেল আবিব ও জেরুজালেমে বিশাল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাজধানী তেহরানেও আবারও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এনডিটিভি সূত্রে খবর, ইরানের মিসাইল হামলায় এক ইসরায়েলি নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

ভারতের এই উদ্বেগ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। যখন আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে, তখন ভারত শান্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট করল। বিশ্বনেতাদের এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগগুলো চলমান সংঘাতের ভবিষ্যত গতিপথ নির্ধারণে কতটা সহায়ক হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।