Black Box অবশেষে পাওয়া গেল, কীভাবে ভয়ানক প্লেন ক্র্যাশ? এবার জানা যাবে তথ্য

বৃহস্পতিবার বিকেলে আহমেদাবাদের মেঘানিনগরে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এয়ার ইন্ডিয়ার AI171 উড়োজাহাজটি ভেঙে পড়ার পর থেকেই এর কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছিল গভীর রহস্য। ২৬৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর, সকলের চোখ ছিল বিমানের ব্ল্যাক বক্সের দিকে। অবশেষে শুক্রবার সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো। ইন্ডিয়া টুডে টিভি সূত্রে জানা গেছে, বিমানটির লেজের দিকে রাখা কমলা রঙের ব্ল্যাক বক্স এবং ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (DVR) উদ্ধার করা হয়েছে।

গুজরাত এটিএস (ATS) জানিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের ধ্বংসস্তূপ থেকে তারা দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস – ব্ল্যাক বক্স ও DVR – উদ্ধার করেছে। বিমানটি যে বহুতলের উপর ভেঙে পড়েছিল, সেই রেসিডেন্ট ডাক্তারদের হোস্টেলের ছাদ থেকেই এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার করে। বিমান দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে এই দুটি ডিভাইস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গুজরাত এটিএসের একজন আধিকারিক জানিয়েছেন, “একটি ডিভিআর আমরা ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করেছি। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি টিম শীঘ্রই এখানে আসবে এবং ডিভাইসটি পরীক্ষা করবে, যা থেকে দুর্ঘটনার ঘটনাগুলির ক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যেতে পারে।” ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের পর বিমান দুর্ঘটনার কারণ আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একমাত্র জীবিত যাত্রীর রোমহর্ষক বর্ণনা:

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন একমাত্র যাত্রী রমেশ বিশ্বাসকুমার বুচারভাদা। ডিডি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রমেশ তার রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “চোখের সামনেই সবটা হয়েছে। কীভাবে বেঁচে ফিরলাম, নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না। কিছু সময়ের জন্য মনে হয়েছিল, আমিও হয়তো মরে যাব। তারপরে চোখ খুলে দেখি, আমি বেঁচে আছি। সিট বেল্ট খুলে তারপরে বেরোনোর চেষ্টা করি।”

টেক অফের পর ঠিক কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে রমেশ বলেন, “টেক অফের পর হঠাৎ ৫-১০ সেকেন্ড মনে হল যেন সব থেমে গেল। তারপরে লাইট জ্বলে যায়। তারপরই ভেঙে পড়ে।” রমেশের কথায়, “দরজা ভাঙা ছিল, তারপরে বেরোনোর চেষ্টা করি। জানি না, কীভাবে বেঁচে গেলাম। আগুনে আমার বাঁ হাত জ্বলে গিয়েছে।”

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতালে গিয়ে রমেশের সঙ্গে দেখা করে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী রমেশের সাথে কথাও বলেছেন। ব্ল্যাক বক্স এবং DVR উদ্ধারের পর, এখন আশা করা হচ্ছে যে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার নেপথ্যের কারণ দ্রুতই সকলের সামনে আসবে।