“১.২৫ লক্ষ লিটার জ্বালানি ছিল বিমানে…”,কাউকে বাঁচানোর সুযোগই ছিল না : অমিত শাহ

আহমেদাবাদের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ, শুক্রবার, দুর্ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, বিধ্বস্ত বিমানটিতে প্রায় ১.২৫ লক্ষ লিটার জ্বালানি ছিল এবং বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, “কাউকে বাঁচানোর কোনো সুযোগই ছিল না।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ বলেন, “আমি ঘটনাস্থলেও গিয়েছিলাম। বিমানের ধ্বংসাবশেষ এবং চারপাশের পরিস্থিতি দেখে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা উপলব্ধি করা যায়।”

দুর্ঘটনার মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “দুর্ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যে আমি মুখ্যমন্ত্রী ও এই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি। প্রধানমন্ত্রীজিরও (নরেন্দ্র মোদী) ফোন আসে। ভারত সরকার ও গুজরাত সরকারের সব বিভাগ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদ্ধারকাজ করেছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য ভারত সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ এবং রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টার উপর আলোকপাত করে। দুর্ঘটনার পর পরই শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয় হয়েছিলেন, তা তাঁর কথায় স্পষ্ট।

এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ ফ্লাইটের এই দুর্ঘটনায় ২৬৫ জন যাত্রী ও ক্রুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, যা ভারতীয় বিমান চলাচলের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। বিমানটিতে থাকা বিপুল পরিমাণ জ্বালানিই যে এত বড় ধ্বংসযজ্ঞের কারণ, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় আরও স্পষ্ট হলো। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ছাই হয়ে গিয়েছিল, ফলে যাত্রীদের বাঁচার কোনো অবকাশই ছিল না।

বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। মৃতদেহগুলো শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে, যাতে স্বজনদের কাছে সেগুলো হস্তান্তর করা যায়। ব্ল্যাক বক্সের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে, যা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সহায়ক হবে।

অমিত শাহের এই বিবরণ দুর্ঘটনার নির্মম বাস্তবতা এবং সরকারের দ্রুত সাড়াদানের চিত্র তুলে ধরল। এই ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি দেশবাসীর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।