বাম জমানার মনীষা-‘রহস্যে’ কুণাল দুঁদে ‘CPIM নেতা’, জেনেনিন কে এই রহস্যময়ী মহিলা?

কলকাতার চলচ্চিত্র জগতে এক নতুন সংযোজন নিয়ে আসছেন পরিচালক অরিন্দম শীল। তাঁর নতুন ছবি ‘কর্পূর’ নব্বইয়ের দশকে তোলপাড় ফেলে দেওয়া মনীষা মুখোপাধ্যায় অন্তর্ধান রহস্য-কে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। এই ছবিতে অপ্রত্যাশিতভাবে অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন সাংবাদিক এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। বাম জমানার এক রাজনৈতিক নেতার ভূমিকায় তাঁকে দেখা যাবে, যা সিনেমার প্রতি দর্শকদের আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

‘কর্পূর’: নামের পেছনের গল্প
ছবির নাম ‘কর্পূর’-এর আক্ষরিক যথার্থতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নব্বইয়ের দশকের যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ছবি, তা একসময় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু সময় পেরিয়ে সেই ঘটনা কর্পূরের মতোই উবে গিয়েছিল জনস্মৃতি থেকে। পরিচালক অরিন্দম শীলের মতে, “কর্পূর উবে গেলেও তার গন্ধ, রেশটা থেকে যায়। সেই কারণেই এই ছবিটা।” এই ঘটনায় প্রচুর সিনেম্যাটিক উপাদান রয়েছে এবং আমাদের দেশে রাজনৈতিক থ্রিলারের সিনেম্যাটিক সংস্করণ সেভাবে তৈরি হয় না। লেখক দীপান্বিতা রায়ের উপন্যাস ‘অন্তর্ধানের নেপথ্যে’ অবলম্বনে এই ছবি তৈরি হয়েছে।

হঠাৎ অভিনয়ে কুণাল ঘোষ
সাংবাদিকতা, লেখালেখি, সমাজসেবা এবং রাজনীতির পাশাপাশি কুণাল ঘোষের অভিনয়ে আসাটা অনেকের কাছেই অবাক করার মতো। দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাত্‍কারে কুণাল ঘোষ বলেন, “আমি নানা ধরনের কাজ করি। কৈশোর থেকেই সাংবাদিকতা করি। লেখালেখি করি, গল্প, উপন্যাস লিখি। নানা সমাজসেবামূলক কাজে থাকি এবং রাজনীতি করি। অভিনয়ের আমি ভক্ত। ভাল লাগে। একটা করে দেখি, পারি কি না। আগে কখনও অভিনয় করিনি।” তিনি আরও জানান, পরিচালক অরিন্দম শীলই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং তিনি একটি নির্দিষ্ট চরিত্রেই অভিনয় করতে চেয়েছিলেন।

কে এই মনীষা?
নব্বইয়ের দশকে শিক্ষা দুর্নীতিতে মনীষা মুখোপাধ্যায়ের নাম উঠে আসে। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী নিয়ামক ছিলেন। কলকাতার বুক থেকে রহস্যজনকভাবে তাঁর অন্তর্ধান সেই সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এই অন্তর্ধানের রহস্যের জট ছাড়াতেই অরিন্দম শীল তাঁর ছবি ‘কর্পূর’ নির্মাণ করেছেন।

কুণাল ঘোষের স্মৃতিতে মনীষা অন্তর্ধান
মনীষা মুখোপাধ্যায় প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ খুব বেশি মুখ খুলতে চাননি। তবে তিনি জানান, “এটা বেশ কয়েক বছর আগেকার একটি ঘটনা। একটি রহস্যজনক অন্তর্ধান। একটি কেস নতুন করে খোলার মতো।” তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনাটি আমি কাছ থেকে দেখেছি। ওই ভদ্রমহিলার মা বারবার আসতেন। সেই সময় ন্যায় বিচার চাইতেন। সেই সবই দেখেছি। একটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাকে উনি নানা তথ্য সংগ্রহ করে কীভাবে সিনেমায় রূপান্তর করেছেন, তা সম্পূর্ণ পরিচালকের বিষয়।” কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য ছবির প্রতি দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ তিনি নিজে সেই ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী।

‘কর্পূর’ ছবিটি এখন মুক্তির অপেক্ষায়, যা দর্শককে নিয়ে যাবে নব্বই দশকের এক চাপা পড়া রহস্যের গভীরে।