বাম-কংগ্রেস জোট আদৌ থাকবে কি 2026 -এ? মোহাম্মদ সেলিমের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য

বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এই মহাযুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে কোমর বাঁধছে প্রতিটি রাজনৈতিক দল। এরই মাঝে বাংলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে – তবে কি ফের জোট বাঁধছে বাম-কংগ্রেস? নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে বামেদের পক্ষ থেকে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণার পর থেকেই এই জল্পনার পালে হাওয়া লেগেছে। এই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুলেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, যা জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও কৌতূহল বাড়িয়েছে।
সেলিমের মন্তব্যে জোট-জল্পনার নতুন মোড়
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অবশ্য সরাসরি জোটের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত বার্তা দেননি, তবে তাঁর মন্তব্যে জোটের সম্ভাবনা যে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, সে ইঙ্গিত স্পষ্ট। তিনি বলেছেন, “কোথায় কে বৈঠক করছেন জানি না। কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের জন্য কংগ্রেসের তরফে ফোন করা হয়েছিল। বামেরা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করছে।”
সেলিম আরও যোগ করেন, “ওরা (কংগ্রেস) যুক্তি দিয়েছে, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে আমরা নিজেদের মধ্যে কেন তিক্ততা বাড়াব। একুশের নির্বাচনে যেহেতু ওরা বামেদের সমর্থন করেছিল, সেটাই চালিয়ে যেতে হয়। একুশ থেকে পঁচিশ ওরা কন্টিনিউ করতে চায়। আর পঁচিশ থেকে ছাব্বিশে ওরা কোথায় যাবে, সেটা ওরা ঠিক করবে। কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত তো আমরা নিতে পারব না।”
সেলিমের এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, বামেরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না এলেও, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জোটের বার্তা স্পষ্ট। ‘একুশ থেকে পঁচিশ কন্টিনিউ’ করার কথা বলে কংগ্রেস কার্যত বামেদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে ‘পঁচিশ থেকে ছাব্বিশে’ তারা কী করবে, সেই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন সেলিম। এই ‘বল’ কংগ্রেসের কোর্টে ঠেলে দিয়ে সেলিম কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কালীগঞ্জ উপনির্বাচন: জোটের ‘ট্রায়াল রান’?
কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনই আপাতত বাম-কংগ্রেসের এই সম্ভাব্য জোটের প্রথম সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। প্রসঙ্গত, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও কালীগঞ্জে কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল এবং বামেরা তাদের সমর্থন জানিয়েছিল। এবার এই উপনির্বাচনে আবারও বাম-কংগ্রেস একসঙ্গে লড়ছে, যা অনেকের কাছে ‘২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ট্রায়াল রান’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: জোটের প্রয়োজনীয়তা?
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাম এবং কংগ্রেস উভয় দলই তাদের পুরনো গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য মরিয়া। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে দাঁড়িয়ে, এককভাবে লড়াই করে ক্ষমতা দখলের সম্ভাবনা সীমিত, এই উপলব্ধি উভয় দলের নেতৃত্বেই বাড়ছে। ২০১৬ সালে বাম-কংগ্রেস জোট কিছুটা সাফল্য পেয়েছিল, কিন্তু ২০২১ সালে সেই জোটের দুর্বলতা প্রকাশ্যে আসে। এখন, নতুন করে এই দুই দল একসঙ্গে লড়ার পথে হাঁটলে তা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে অনেকটাই বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে, এই জোট শেষ পর্যন্ত বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত গড়াবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে। উভয় দলের মধ্যে আসন সমঝোতা, নেতৃত্ব এবং কৌশলগত দিক থেকে কতটা সমন্বয় সম্ভব হয়, তার উপরই নির্ভর করছে এই জোটের ভবিষ্যৎ। কালীগঞ্জের ফলাফলই হয়তো আগামী দিনের রাজনীতির একটি দিকনির্দেশ দিতে পারে।