তীব্র গরমে জলযুদ্ধ! পানীয় জলের সঙ্কটে মধ্যমগ্রামে বিক্ষোভ স্থানীয়দের

তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই রাজ্য জুড়ে মাথাচাড়া দিয়েছে ভয়াবহ জলসংকট। মধ্যমগ্রাম থেকে শিলিগুড়ি – সর্বত্র পানীয় জলের দাবিতে চলছে বিক্ষোভ, জনরোষে দিশেহারা প্রশাসন। এই গ্রীষ্মে জল যেন হয়ে উঠেছে সোনার চেয়েও দামি।
মধ্যমগ্রাম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাটুলি বাদামতলা এলাকার বাসিন্দারা তীব্র জলকষ্টে গত আট দিন ধরে ভুগছেন। জলের অভাবে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে, আর তাই বুধবার ক্ষুব্ধ জনতা কাউন্সিলর ও পুরসভার জল বিভাগের পুর পরিষদ সদস্যকে আটকে রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে মধ্যমগ্রাম পুরসভার প্রধান নিমাই ঘোষ এবং রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ এলাকায় এলে তাঁদেরও ঘিরে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যমগ্রাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, পুরসভা থেকে জলের গাড়ি পাঠানো হলেও তা সঠিক সময়ে রিফিল করা হয় না, যার ফলে জলসংকট আরও বাড়ে। তাঁরা দাবি করেছেন, আজ রাতের মধ্যেই পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হবে, অন্যথায় বিক্ষোভ চলবে। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি নিজে উপস্থিত থেকে সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এলাকা ছাড়বেন না।
এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে প্রবল জলসংকটে ভুগছে শিলিগুড়ি পুরসভার বেশিরভাগ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। পুরসভার দাবি, সিকিমে অতি বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীতে ঘোলা জল আসছে, যা শোধন করতে সমস্যা হচ্ছে। এই কারণেই পুরসভার ৪৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রায় ৩০টি ওয়ার্ডে জল আসছে না বলে জানিয়েছেন ডেপুটি মেয়র। পানীয় জলটুকুও জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয়রা।
এই পরিস্থিতিতে মেয়র গৌতম দেবের পদত্যাগ দাবি করেছে বাম ও বিজেপি। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পুরসভা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিপিএম। শিলিগুড়ির বহু মানুষ অতীতে কুয়োর জল পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করলেও, এখন তাদের অনেকেই সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাইরে থেকে চড়া দামে পানীয় জল কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন বাকিরা, আর দৈনন্দিন অন্য কাজের জন্য জল পাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
এই তীব্র গরম আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা জলসংকট রাজ্য জুড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন কি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে, নাকি এই গ্রীষ্মে জলযুদ্ধ আরও তীব্র হবে?