SSC-তে গিয়েছে ২৬০০০ চাকরি! প্রাথমিকের নিয়োগে ফের জটিলতা, হাইকোর্টে D.El.Ed উত্তীর্ণদের মামলা

এসএসসি নিয়ে রাজ্য যখন উত্তাল, তখনই ২০২২ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে (Primary Recruitment) কেন্দ্র করে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং (NIOS) থেকে D.El.Ed পাশ করা কয়েকশো চাকরিপ্রার্থী এবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বিজ্ঞপ্তিতে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তাঁরা।

জানা গেছে, গত ৩০ মে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ নথি যাচাইয়ের জন্য যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তাতে শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে Open Schooling থেকে D.El.Ed পাশ করা অন্য প্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না, যা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। আগামী ৯ জুন থেকে নথি যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, তার আগেই এই মামলা দায়ের হওয়ায় প্রক্রিয়াটি নতুন করে জটিলতার মুখে পড়েছে। আগামীকাল, ৫ জুন এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২২ সালে ১১ হাজার ৭৬৫টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। পর্ষদ জানিয়েছিল, টেট উত্তীর্ণ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত D.El.Ed প্রার্থীরা এবং যারা D.El.Ed কোর্সে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন, তারা আবেদন করতে পারবেন। শর্ত ছিল, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কোর্স শেষ করতে হবে।

এরপর D.El.Ed ছিল না এমন প্রায় ১০০ জন চাকরিপ্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। পরবর্তীতে তাঁরা NIOS থেকে D.El.Ed শুরু করেন। সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, এই প্রার্থীরাও নিয়োগে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু পর্ষদের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারীরাই আবেদন করতে পারবেন। এই বিষয়টি নিয়েই বর্তমানে বিপত্তি।

হাইকোর্টে প্রায় ৫০০-র বেশি চাকরিপ্রার্থীর দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টের রায় মানছে না। তাদের বক্তব্য, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী Open Schooling থেকে D.El.Ed পাশ করা প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীর নথি যাচাই করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। অথচ বর্তমান বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তা করা হচ্ছে না, যা তাঁদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

এই আইনি জটিলতা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও দীর্ঘায়িত করবে কিনা, সেটাই এখন দেখার।