“অঙ্গনওয়াড়ির মেনুতে বিরিয়ানি!”-নতুন খাবার তালিকা দেখে খুশি খুদে ও অভিভাবকরা

রোজ রোজ একঘেয়ে উপমা বা চালের গুঁড়োর লাড্ডু খেতে আর ভালো লাগছিল না ত্রিজাল এস সুন্দরের। বয়স মাত্র ৩ বছর, কিন্তু তার মন ভরে উঠেছিল বিরিয়ানির স্বপ্ন আর মশলার সুগন্ধে। তার এই ছোট্ট আবদার ফেলতে পারেননি কেরালা সরকার। এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবার থেকে রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি স্কুলগুলোতে পড়ুয়াদের পাতে জুটবে সুস্বাদু বিরিয়ানিও।
ত্রিভালের বাড়ি কেরালার আলাপ্পুঝায়। সে ছোটবেলা থেকেই বিরিয়ানি খেতে খুব ভালোবাসে। গত বছর দেবীকুলঙ্গারা পঞ্চায়েতের খাশেরিয়েল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তাকে ভর্তি করে দেন মা-বাবা। কিন্তু অঙ্গনওয়াড়িতে রোজকার মেনু – উপমা, পিডি (চালের গুঁড়োর লাড্ডুর মতো বল), কোজুক্কট্টা (চালের গুঁড়ো, নারকেল ও গুড় দিয়ে তৈরি মিষ্টি) – তার মোটেই ভালো লাগত না। তার চাই ছিল শুধু বিরিয়ানি!
এক ভাইরাল ভিডিও থেকে মেনু পরিবর্তন
গত ২৬ জানুয়ারি ত্রিভালের বাড়িতে বিরিয়ানি তৈরি হয়েছিল। দুপুরে খাওয়াদাওয়ার সময় তার মা অশ্বথী একটি ভিডিও বানান। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, তৃপ্তির সঙ্গে বিরিয়ানি খেতে খেতে ত্রিভাল বলছে, “অঙ্গনওয়াড়িতেও উপমার বদলে বিরিয়ানি আর চিকেন ফ্রাই চাই।” এই মিষ্টি আবদারের ভিডিওটি ত্রিভালের মা ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন, যা দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়।
ভাগ্যক্রমে, এই ভিডিওটি নজরে আসে কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জের। ভিডিওটি দেখার পরই তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, “ঠিক আছে, ব্যবস্থা করছি।” মন্ত্রীর এই আশ্বাস তখন অনেকের কাছেই সাধারণ একটি মন্তব্য মনে হলেও, তিনি যে তা বাস্তবে পরিণত করবেন, তা কেউ ভাবেনি।
পাঁচ মাসের অপেক্ষা, পাতে এখন প্রোটিন-সমৃদ্ধ বিরিয়ানি!
পাঁচ মাস পর গতকাল, মঙ্গলবার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ অঙ্গনওয়াড়ির ‘মডেল ফুড মেনু’ আপডেটের খবর ঘোষণা করেছেন। আর সেখানেই সকলের অবাক হওয়ার পালা। নতুন মেনুতে দেখা যায়, সপ্তাহে একদিন বিরিয়ানিও দেওয়া হবে অঙ্গনওয়াড়ির পড়ুয়াদের! ডিম-বিরিয়ানি কিংবা পোলাও, অর্থাৎ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এখন খুদেদের পাতে যোগ হচ্ছে।
এই খবরে সবচেয়ে বেশি খুশি ত্রিভাল। নতুন একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “ধন্যবাদ মন্ত্রী আন্টি, আমি খবরটা শুনেছি।” ত্রিভালের এই সরল আনন্দ এবং তার একটি ছোট্ট আবদারের জন্য সরকারের এমন ইতিবাচক পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এটি শুধু একটি শিশুর বিরিয়ানি পাওয়ার গল্প নয়, বরং সরকারি পরিষেবায় সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের, চাওয়া-পাওয়ার গুরুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।