BigNews: দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে COVID, ফের মাস্ক পরার পরামর্শ সহ আর কী কী নির্দেশ দিলো কেন্দ্র?

দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ ঘিরে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে ৪ হাজার ৩০২ জনে দাঁড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে, দৈনিক মৃতের সংখ্যাও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; গত একদিনে কোভিডে নতুন করে ৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক দেশজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ফের ‘মক ড্রিল’ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে।
রাজ্যগুলিতে সংক্রমণের চিত্র: কেরল শীর্ষে, মহারাষ্ট্র-বাংলাতেও বাড়ছে চাপ
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মধ্যে কেরলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ১৩৭৩ জন, যা রাজ্যটিকে সংক্রমণের শীর্ষে রেখেছে। এরপরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র, যেখানে ৫১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গুজরাটে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬১ এবং দিল্লিতে একদিনে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৪৫৭ জন।
পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি: কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩২ জন নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে করোনায় নতুন করে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের এই পরিসংখ্যান উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে আরও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশিকা: মাস্ক ও পরীক্ষার ওপর জোর
যে হারে নতুন করে করোনার দাপট বাড়ছে, তাতে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আবারও সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ‘মক ড্রিল’ পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মক ড্রিলের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের সক্ষমতা যাচাই করা হবে।
একই সঙ্গে, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং কোভিড-১৯ বিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে:
যাঁদের করোনায় সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে (যেমন বয়স্ক ব্যক্তি, অন্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি), তাঁদের জনসমক্ষে মাস্ক পরা উচিত।
যাঁদের কোভিড উপসর্গ রয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে যেসব রোগীর উপসর্গ রয়েছে, তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে করোনার পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়েছে।
করোনা সংক্রমণ রুখতে বারবার হাত ধোওয়া এবং মাস্ক পরার মতো মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
JN.1 সাব-ভেরিয়েন্ট: নতুন উপসর্গগুলি কী কী?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমানে যে JN.1 সাব-ভেরিয়েন্ট-এর সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তাতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের কথা জানিয়েছেন। এই
লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:
গলা ব্যথা
ঘুমের সমস্যা
সর্দি
কাশি
মাথাব্যথা
দুর্বলতা বা ক্লান্তি
পেশীতে ব্যথা
চিকিৎসকদের মতে, “কাশি, গলা ব্যথা, হাঁচি, ক্লান্তি এবং মাথাব্যথা হল সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন কিছু লক্ষণ। তবে এগুলো ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণও হতে পারে, তাই আগে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।” তারা আরও জানান, বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে কাশি, গলা ব্যথা, হাঁচি, ক্লান্তি এবং মাথাব্যথা এই উপসর্গগুলি দেখা গিয়েছে।
করোনার এই নতুন ঢেউ মোকাবিলায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সতর্কতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য বিভাগগুলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।