শিলং হানিমুনে বিভীষিকা, গভীর খাদে উদ্ধার বিরাট ‘কাটারি’! নিখোঁজ নবদম্পতি, ঠিক কী ঘটেছিল?

বিয়ের পর শিলংয়ে হানিমুন করতে এসে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ইনদওরের নবদম্পতির ঘটনায় নতুন মোড়। ৮ দিন ধরে ব্যাপক তল্লাশির পর দু’দিন আগে মেঘালয়ের একটি ঝরনার পাশের খাদ থেকে উদ্ধার হয় যুবক রাজা রঘুবংশীর পচনশীল দেহ। কিন্তু তার স্ত্রী সোনম রঘুবংশীর দেহ এখনও মেলেনি। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত খুন? আর সোনমের দেহই বা কোথায়? ধীরে ধীরে সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর সূত্র।

রহস্যময় সূত্রগুলো: ‘দাঁ’ এবং অন্যান্য আলামত
তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত হাতে পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সোনমের একটি সাদা শার্ট, একটি স্ক্রিন ভাঙা মোবাইল, এক পাতা অম্বলের ট্যাবলেট প্যানট্রা ৪০, এবং রাজার দেহে থাকা স্মার্টওয়াচ। এবার মেঘালয় পুলিশের হাতে এসেছে একটি ‘দাঁ’ বা কাটারি, যা সম্ভাব্য খুনের অস্ত্র বলে মনে করা হচ্ছে। উইসদং ঝরনার অনেক নীচের খাদে একটি ভাঙা মোবাইলের পাশাপাশি এই ‘দাঁ’ উদ্ধার করা হয়েছে।

ইস্ট খাসি হিলের পুলিশ সুপার বিবেক সিয়েম জানিয়েছেন, রাজা রঘুবংশীর স্ত্রী ২৭ বছর বয়সী সোনমের খোঁজে তল্লাশি চলছে। NDRF, SDRF, এবং Special Operations Team যৌথ উদ্যোগে এই তল্লাশি চালাচ্ছে। পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে এবং একটি বিশেষ তদন্তকারী দলও গঠন করা হয়েছে। এসপি সিয়েম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমরা সব দিকই খতিয়ে দেখছি। চুরি-ডাকাতির চেষ্টা থেকে খুনের ঘটনা, সব দিকই দেখা হচ্ছে।”

পরিবারের দাবি: সিবিআই তদন্ত ও অপহরণের আশঙ্কা
রাজার পরিবারের তরফে গোটা ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। রাজার ভাই বিপিন রঘুবংশী দাবি করেছেন, “আমরা সিবিআই তদন্ত চাইছি। আমাদের মনে হয় ডাকাতি করে খুন করা হয়েছে। ওঁর (রাজার) পার্স, হীরের ব্রেসলেট মিসিং। সোনমকে মনে হয় কিডন্যাপ করা হয়েছে।”

নিখোঁজ হওয়ার দিন ও ঘটনাস্থল
রাজা এবং সোনম রঘুবংশী গত ২৩ মে নংগ্রিয়াট গ্রামের একটি হোমস্টে থেকে চেক আউট করেছিলেন। রাজার দেহ যেখানে পাওয়া গিয়েছে সেই জায়গাটা হোমস্টে থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। রাজারা আগের দিন মাওলাখিয়াতে পৌঁছে একটি স্কুটার ভাড়া নিয়েছিলেন। সেই স্কুটার পার্ক করা ছিল নংগ্রিয়াট গ্রামের লিভিং রুট ব্রিজগুলোর কাছে। তারপর তারা লিভিং রুট ব্রিজ দেখতে ৩,০০০ ধাপ নীচে নেমেছিল এবং সেখানেই রাত কাটিয়েছিল।

রাজার দেহ পোস্টমর্টেম পরীক্ষার জন্য শিলংয়ের NEIGRIHMS-এ পাঠানো হয়েছে। সোনমের সন্ধান অব্যাহত থাকায়, তদন্তকারীরা আশা করছেন যে উদ্ধার হওয়া ‘দাঁ’ এবং মোবাইল ফোন এই সন্দেহভাজন দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সরবরাহ করবে। এই ঘটনাটি বর্তমানে শিলং এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে নবদম্পতির ভাগ্যে কী ঘটেছিল তা জানার জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।