বিদেশ থেকে ফিরেই বিস্ফোরক অভিষেক! কেন থাকছেন না বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে? জানালেন কারণ

গভীর রাতে শহরের মাটিতে পা রাখতেই জল্পনা শুরু। মঙ্গলবার মধ্যরাতে কলকাতা ফিরেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিগত বেশ কিছু দিন ধরে দেশের বাইরে ছিলেন তিনি, কেন্দ্রের গড়ে দেওয়া একটি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে। বিশ্বের একাধিক দেশে গিয়ে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ এবং এর বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। তবে দেশে ফিরেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আজ কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি থাকছেন না।

জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় ঝায়ের নেতৃত্বে গঠিত এই সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদও ছিলেন। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ায় সফর করেছে এই দল। প্রতিটি দেশেই তারা পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের মুখোশ উন্মোচন করেছে। এই সফল সফর শেষ করে গতকাল মধ্যরাতে কলকাতায় ফেরেন অভিষেক। আর তখনই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, বুধবারের বৈঠকে তিনি থাকতে পারছেন না।

কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল সাংসদ বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রকে জানিয়ে দিয়েছেন যে বুধবারের বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন না। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, আগামী কয়েকদিন তাঁর বেশ কিছু পূর্ব-নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে। সেই সঙ্গেই কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন নিয়েও তাঁকে ব্যস্ত থাকতে হবে। এই সব কারণেই তিনি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠকে থাকতে পারছেন না বলে জানান।

প্রসঙ্গত, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করতে কেন্দ্র সাতটি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল গড়ে দিয়েছিল। এই দলগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফর করেছে। সেখানে কী কী আলোচনা হয়েছে, সেই বিষয়ে বিশদে জানতেই আজ সকল প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। অভিষেক অবশ্য সেখানে থাকবেন না। ইতিমধ্যেই তিনি বিদেশমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই কথা জানিয়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে বলেছেন, সদ্যসমাপ্ত এই সফরের কর্মসূচি নিয়ে তাঁর নিজস্ব মতামত কেন্দ্রকে লিখিতভাবে স্পষ্ট করবেন।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন: কেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে সবার আগে দেশ। জাতীয় স্বার্থের থেকে রাজনৈতিক আগ্রহকে অধিক গুরুত্ব দিতে পারেন না, এই কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে তাঁর দেশপ্রেমের বার্তা বহন করে।

অভিষেকের এই সিদ্ধান্ত এবং মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের বাইরে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করলেও, দেশের মাটিতে ফিরে তিনি যে তাঁর রাজনৈতিক স্বতন্ত্রতা বজায় রাখবেন, সেটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন।