SPORTS: সর্বোচ্চ রান ও বাউন্ডারিতে আইপিএলে নতুন ইতিহাস, জেনেনিন নয়া রেকর্ড সম্পর্কে

নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) এবং পাঞ্জাব কিংসের (PBKS) শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামল আইপিএলের অষ্টাদশ আসরের। শ্রেয়াস আইয়ারের পাঞ্জাব কিংসকে ৬ রানে হারিয়ে অবশেষে প্রথমবার শিরোপার স্বাদ পেলেন বিরাট কোহলি ও রজত পাতিদাররা। আগে ব্যাট করে শিরোপাধারীরা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯০ রান তোলে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাব একসময় অনেকটাই পিছিয়ে ছিল, তবে শেষদিকের ঝোড়ো ইনিংসে শশাঙ্ক সিং (Shashank Singh) সেই ব্যবধান মাত্র ৬ রানে কমিয়ে আনেন।

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে কোহলিরা যখন নিজেদের দলীয় ইতিহাস গড়ছেন, একই সময়ে পুরো আইপিএলেরই নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট এবার সাক্ষী হয়েছে এক আসরে সর্বোচ্চ রান, সবচেয়ে বেশি রানরেট, সর্বোচ্চ চার-ছক্কার বাউন্ডারি এবং দুইশ রানের ইনিংসের রেকর্ড ভাঙা-গড়ার মহোৎসবের। বোঝাই যাচ্ছে, আইপিএলের অষ্টাদশ আসরটি ব্যাটসম্যানদের জন্য কতটা অসাধারণ কেটেছে!

এক নজরে ২০২৫ আইপিএলের নতুন ইতিহাস:

  • এক আসরে সর্বোচ্চ রান: ২৬৩৮১
  • এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটপ্রতি রান: ৩০.৩৯
  • এক আসরে সবচেয়ে বেশি রানরেট: ৯.৬২
  • সর্বাধিক চার: ২২৪৫টি
  • সর্বাধিক ছক্কা: ১২৯৪টি
  • সর্বাধিক ২০০+ ইনিংস: ৫২টি

বেঙ্গালুরু-পাঞ্জাব ফাইনালে যত রেকর্ড:

  • ৬ রানের ব্যবধানে জয়: আইপিএলে ৬ রানের ব্যবধানে জয় যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। পাঞ্জাবের মতো ২০০৯ আইপিএলের ফাইনালে ৬ রানে বেঙ্গালুরু হেরেছিল ডেকান চার্জার্সের কাছে। এবার সেই বেঙ্গালুরুই একই ব্যবধানে জয় দিয়ে পাঞ্জাবকে হারের স্বাদ দিলো। ফাইনালে সর্বনিম্ন ১ রানে হারের নজির রয়েছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস ও চেন্নাই সুপার কিংসের, উভয় দলকেই হারায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।
  • আরসিবির দ্বিতীয় ফাইনাল হার: আইপিএলে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ফাইনালে হারল বেঙ্গালুরু। সমান সংখ্যক হারের কীর্তি আছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। যদিও সানরাইজার্স আরও একবার ফাইনালে উঠে শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়েছে। আইপিএলে সর্বাধিক ৫ ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংস এবং ৩ বার হেরেছে বেঙ্গালুরু।
  • ক্রুনাল পান্ডিয়ার অনন্য রেকর্ড: আইপিএলে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে দুইবার ফাইনালে ম্যাচসেরা হয়েছেন ক্রুনাল পান্ডিয়া (Krunal Pandya)। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে ২০১৭ আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে তিনি ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একইভাবে গতকাল মাত্র ১৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে তিনি হয়েছেন ম্যাচসেরা। টুর্নামেন্টটির দুই ফাইনালে সেরা ক্রিকেটার হওয়ার নজির নেই আর কারোই।
  • চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটারদের সংখ্যাবৃদ্ধি: আইপিএলে চার অথবা তার বেশিবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড রয়েছে আট ক্রিকেটারের। এর মধ্যে রোহিত শর্মা ও আম্বাতি রাইডু সর্বোচ্চ ৬ বার; মহেন্দ্র সিং ধোনি, কাইরন পোলার্ড ও হার্দিক পান্ডিয়া ৫ বার; এবং রবীন্দ্র জাদেজা, লাসিথ মালিঙ্গা ও ক্রুনাল পান্ডিয়া ৪টি ফাইনালে জিতেছেন।
  • ছক্কার নতুন রেকর্ড (২৩/১৪): পাঞ্জাব-বেঙ্গালুরুর ফাইনালে গতকাল মোট ২৩টি ছক্কা মেরেছেন ব্যাটাররা, যা আইপিএলের ফাইনালে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছয়ের রেকর্ড। সমান সংখ্যক ছয় দেখা গিয়েছিল ২০১৬ আসরের ফাইনালে। নির্দিষ্ট দলের হিসাবে ফাইনালে গতকাল সর্বোচ্চ ১৪টি ছক্কা হাঁকায় পাঞ্জাব। এর মধ্য দিয়ে তারা ছাড়িয়ে গেছে ২০১১ আসরের চেন্নাই ও ২০১৬ ফাইনালের বেঙ্গালুরুকে (উভয় দলই চূড়ান্ত ম্যাচে ১৩টি ছক্কা মেরেছিল)।
  • কোয়ালিফায়ার ১ বিজয়ীদের দাপট (৮/১৫): এ নিয়ে আইপিএলের গত আট (২০১৮–২০২৫) আসরে প্রথম কোয়ালিফায়ারে বিজয়ী দল ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সবমিলিয়ে ২০১১ সালে প্লে-অফ পদ্ধতি চালুর পর থেকে গত ১৫ আসরে ১২টি চ্যাম্পিয়ন দলই জিতেছিল প্রথম কোয়ালিফায়ারে।
  • প্রিয়াংশ আর্যের অভিষেকের কীর্তি (৪৭৫): এবারের আইপিএলে রানার্সআপ পাঞ্জাবের হয়ে ওপেনার প্রিয়াংশ আর্যের (Priyansh Arya) অভিষেক হয়েছিল। আর তাতেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনভিষিক্ত ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে আইপিএলের প্রথম আসরে সর্বোচ্চ রানের (৪৭৫) রেকর্ড গড়লেন। এই তালিকায় এরপর অবস্থান– দেবদূত পাদিক্কাল (৪৭৩, ২০২০ আসর) এবং শ্রেয়াস আইয়ার (৪৩৯, ২০১৫)।
  • বিরাট কোহলির রান-বৃষ্টি (১১৫৯): আইপিএলে সবমিলিয়ে কেবল পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষেই ১১৫৯ রান করেছেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। যা নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। চেন্নাইয়ের বিপক্ষেও সর্বোচ্চ রান অভিজ্ঞ এই বেঙ্গালুরু তারকার (১১৪৬)। এছাড়া পাঞ্জাবের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (১১৩৪) রান করেন ডেভিড ওয়ার্নার। দিল্লির বিপক্ষে কোহলি (১১৩০) এবং কলকাতার বিপক্ষে ওয়ার্নার (১০৯৩) সর্বোচ্চ রান করেছেন।

অষ্টাদশ আইপিএল আসরটি যে কেবল বেঙ্গালুরুর জন্যেই নয়, গোটা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল, তা বলাই বাহুল্য।