মুম্বই চিড়িয়াখানায় জন্মানো পেঙ্গুইন ছানাদের নামও হতে হবে মারাঠি, আজব দাবি বিজেপির

মহারাষ্ট্রের মাটিতে জন্মানো সন্তানের নাম মারাঠিতেই হওয়া উচিত—এই তত্ত্ব এতদিন ছিল সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু এবার সেই মারাঠি নামকরণের দাবি পৌঁছে গেল মুম্বইয়ের চিড়িয়াখানার পেঙ্গুইন শাবকদের নামকরণ পর্যন্ত! সম্প্রতি সেখানে জন্ম নেওয়া পেঙ্গুইন ছানাদের নাম কী হবে, তা নিয়েই তুঙ্গে বিতর্ক। বিজেপির স্পষ্ট দাবি, যেহেতু এই শাবকদের জন্ম মহারাষ্ট্রে, তাই তাদের নামও হতে হবে খাঁটি মারাঠি।

আসলে, সামনেই মুম্বই পুরসভার নির্বাচন। তাই পেঙ্গুইনদের ‘মারাঠি’ নাম দেওয়ার দাবি তুলে শহরের বুকে বিক্ষোভও দেখিয়েছে গেরুয়া শিবির। বাইকুল্লা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি নেতা নীতিন বাঙ্কারের নেতৃত্বে হওয়া এই বিক্ষোভে মারাঠি ভাষার ধ্রুপদী মর্যাদার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।

নীতিন বাঙ্কার বলেন, “যখন বিদেশ থেকে পেঙ্গুইনদের বীরমাতা জিজাবাই ভোসলে বোটানিক্যাল উদ্যান এবং চিড়িয়াখানায় (সাধারণত রানিবাগ নামে পরিচিত) আনা হয়, তখন আমরা মেনে নিয়েছিলাম যে তাদের নাম ইংরেজিতে থাকবে। কিন্তু, মহারাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া ছানাদের মারাঠি নাম দেওয়া উচিত।”

বিজেপি নেতা বাঙ্কারের অভিযোগ, বৃহন্নুম্বাই পৌরনিগম (বিএমসি)-এর কাছে বারবার আবেদন করা হলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের দাবিতে অনড় ছিলাম, কিন্তু তা উপেক্ষা করা হয়েছে। আমি বিএমসি প্রশাসনকেও চিঠি লিখেছিলাম, কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি।”

বাঙ্কারের প্রশ্ন, “যদি মারাঠি ভাষা ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা পায়, তাহলে কেন কিছু পেঙ্গুইন ছানার মারাঠি নাম দেওয়া যাবে না?”

আসলে, বিজেপির এই দাবিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ পুরভোটের আগে ‘নামকরণের রাজনীতি’ হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, মারাঠি আবেগকে উস্কে দিয়ে ভোটবাক্স ভরানোর চেষ্টা চলছে। তবে, পেঙ্গুইন শাবকদের নাম শেষ পর্যন্ত মারাঠি হবে কি না, তা সময়ই বলবে। কিন্তু এই ‘নামকরণের রাজনীতি’ যে মুম্বইয়ের চিড়িয়াখানাকে হঠাৎ করেই শিরোনামে নিয়ে এসেছে, তাতে সন্দেহ নেই।