পহেলগাঁওয়ের ছায়া সরিয়ে মোদীর হাত ধরে কাশ্মীরে প্রথম বন্দেভারত

পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার রক্তমাখা স্মৃতি এখনও টাটকা। উত্তপ্ত ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, থমথমে জম্মু-কাশ্মীর। সেই অস্থিরতার মধ্যেই শান্তির বার্তা নিয়ে ভূস্বর্গে পা রাখতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ৬ জুন, তাঁর জম্মু-কাশ্মীর সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নতুন প্রত্যাশা।

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে, জম্মু-কাশ্মীরকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে বন্দেভারত এক্সপ্রেসের মাধ্যমে যুক্ত করার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে উপত্যকা। কাটরা থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত এই বিশেষ ট্রেনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাহাড়ি পথে, দুর্গম অঞ্চলে তৈরি এই রেললাইন ভারতীয় রেলের প্রকৌশলগত উৎকর্ষের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

এই রেল সংযোগ শুধু যাত্রী পরিবহনের জন্যই নয়, স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও এক বড় আশীর্বাদ হতে চলেছে। বৈষ্ণোদেবী তীর্থযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাটরা এখন সরাসরি শ্রীনগরের সঙ্গে যুক্ত হবে। কাশ্মীরের আপেল, ড্রাই ফ্রুটস এবং হস্তশিল্পের মতো পণ্য দেশের অন্যান্য প্রান্তে সহজে পৌঁছনো যাবে। পর্যটন শিল্পেও আসবে নতুন জোয়ার।

বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই বন্দেভারত এক্সপ্রেস মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও মসৃণভাবে চলতে সক্ষম। চালকের কেবিনে উষ্ণ উইন্ডশিল্ড এবং ট্রেনের পাইপলাইন ও বায়ো-টয়লেটে হিটিং এলিমেন্টের মতো উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পরিষেবা সচল রাখবে।

৪২ বছরের প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পের সমাপ্তি শুধু রেল যোগাযোগের উন্নতিই ঘটাবে না, কাশ্মীরের অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। পহেলগাঁওয়ের আতঙ্ক সরিয়ে, বন্দেভারতের হাত ধরে শান্তি ও উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে কাশ্মীর।