কালীগঞ্জ উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতি, প্রিসাইডিং অফিসারদের ইভিএম ও ভিভিপ্যাট প্রশিক্ষণ শুরু

আগামী ১৯ জুন নদীয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই উপনির্বাচনের আগে ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই প্রশিক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণের বিস্তারিত:
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, তিন দফায় এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মূলত, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রেইল (ভিভিপ্যাট) পরিচালনার উপরই এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রীভূত। জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর যৌথভাবে কালীগঞ্জের ৩০৯টি বুথের ৯০৮ জন নির্বাচনী কর্মীকে এই প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।
নদিয়ার ডিইও (ডিস্ট্রিক্ট ইলেক্টরাল অফিসার) তথা জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদের তত্ত্বাবধানে এই প্রশিক্ষণশালায় ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব বিসি পাত্র, ইভিএম নোডাল অফিসার রাহুল ফুকান এবং রাজ্যের ডেপুটি সিইও সুমন্ত রায়। প্রথম দফায়, প্রিসাইডিং অফিসারদের ইভিএম পরিচালনা এবং ভিভিপ্যাট নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
দায়িত্ব ও কর্তব্য:
প্রশিক্ষণে ব্যালট ইউনিট থেকে কন্ট্রোল ইউনিটের যাবতীয় কার্যকারিতা বোঝানো হচ্ছে। ভোটার ভোট দিতে গেলে ইভিএম-এ একটি ভোটদান যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ না হচ্ছে, ততক্ষণ তাকে কী কী বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে হবে, সেগুলো হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও একজন প্রিসাইডিং অফিসারের কী কী কর্তব্য এবং দায়িত্ব, সেইসব বিষয় বিশদে বোঝানো হচ্ছে।
বুথে নির্বাচন কর্মীদের নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে যাতে কোনো রকম প্রশ্নের অবকাশ না থাকে, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রিসাইডিং অফিসারকেই। সেই বিষয়ও তাঁদের পাঠ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ভোট সংক্রান্ত এবং ভোটার সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য যা হ্যান্ডবুকে রয়েছে, সেইসব তাঁদেরকে আরও একবার করে পড়ে নিতে বলা হয়েছে, যাতে মূল ভোট গ্রহণের দিনে কোনো রকম সমস্যা বা ধোঁয়াশা না থাকে তাঁদের মনে।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি:
উল্লেখ্য, আগামী বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেই নির্বাচন নিয়েও ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে নিয়মের একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বেশ কিছু নতুন নিয়ম ও পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও অবাধ রাখতে কমিশন অত্যন্ত তৎপর। তারই অংশ হিসেবে ভোটকর্মীদের ইভিএম প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে, যা আসন্ন কালীগঞ্জ উপনির্বাচনেও প্রতিফলিত হবে।