‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, বিদেশী সদস্যদের সঙ্গে বসতে পারে বৈঠক

সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে। জানা গেছে, এই অভিযানের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী ভারতের অবস্থান তুলে ধরতে বিদেশ সফরকারী ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। বিদেশ সফর থেকে ফিরে আসার পর আগামী ৯-১০ জুন এই বৈঠক সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিশ্বজুড়ে সম্পন্ন হওয়া আলোচনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তথ্য দেবেন। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ৭টি প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে, যারা বিভিন্ন দেশ সফর করছেন এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’ সম্পর্কে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছেন।
‘অপারেশন সিঁদুর’ – পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব:
মূলত, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) সন্ত্রাসবাদীদের আস্তানা ধ্বংস করা। গত ২২ এপ্রিল পাহেলগাঁও-তে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত এই অভিযান সম্পন্ন করে। ওই হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক। এমতাবস্থায়, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর কেন্দ্রীয় সরকার বিশ্বব্যাপী নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের আসল সত্য উন্মোচন করতে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
৭ মে শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’:
পাহেলগাঁও হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যোগ্য জবাব দিতে ভারত গত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। ওই অভিযানে ভারত পাকিস্তানে এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গিদের ৯টি আস্তানা ধ্বংস করে দেয়। ভারতের এই আক্রমণে ১০০ জনেরও বেশি জঙ্গি খতম হয়। এদিকে, ভারতের এই প্রত্যাঘাতের পর পাকিস্তান ভারতে হামলার করার চেষ্টা করে।
পাকিস্তানের ব্যর্থ আক্রমণ এবং যুদ্ধবিরতি:
পাকিস্তান ভারতে হামলার চেষ্টা করলেও ভারত উপযুক্ত জবাব দিয়েছে এবং পাকিস্তানের প্রতিটি আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতের পাল্টা আক্রমণের ভয়ে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির কথা বলে। গত ১০ মে, পাকিস্তানের ডিজিএমও (ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস) ভারতের ডিজিএমও-র সঙ্গে কথা বলেন এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়। তারপরেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও তার কয়েক ঘন্টা পরেই পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে এবং ড্রোন দিয়ে জম্মুর কিছু সেক্টরে আক্রমণ করার চেষ্টা করে। ভারত সেই চেষ্টাও ব্যর্থ করে দেয়।
সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের উদ্দেশ্য:
সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের মূল উদ্দেশ্য হল বিশ্বের সামনে ভারতের পক্ষ জোরালোভাবে উপস্থাপন করা এবং পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের আসল ছবি উন্মোচন করা। এছাড়াও, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের জিরো-টলারেন্স নীতি হিসেবে ‘অপারেশন সিঁদুর’কে উপস্থাপিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এটা তুলে ধরা যে ভারতের পদক্ষেপগুলি ভারসাম্যপূর্ণ, সুনির্দিষ্ট এবং অ-সম্প্রসারণবাদী ছিল, যেখানে কেবল জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকেই “টার্গেট” করা হয়। এই বৈঠকটি ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।