“অনেক আধুনিক ব্যক্তিই সিঁদুর পরেন না, কেন পরবেন?” বিস্ফোরণ ঘটালেন বাম নেতা বিকাশ

পহেলগাঁওয়ের ক্ষত ভরাতে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালালেও, সেই সামরিক পদক্ষেপের রেশ থামতে না থামতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি। যেখানে একদা কেন্দ্রের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বিরোধীরা, সেখানেই এখন ‘সিঁদুর’ ঘিরেই যত তরজা। এই আবহে সিঁদুর পরার আবশ্যিকতা নিয়েই সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিলেন বাম নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট জিজ্ঞাসা, “অনেক আধুনিক ব্যক্তিই সিঁদুর পরেন না। কেন পরবেন?”

প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফর এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রসঙ্গ যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে। একটি ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় এই বিষয়ে মুখ খোলেন বিকাশ। শুধু তাই নয়, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর নামকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘দেশের একটি অংশের প্রধানমন্ত্রী’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

রাজ্যসভার এই সাংসদের মতে, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওনার শরীরে রক্ত নয়, সিঁদুর বইছে। এসব বলে আবেগে সুড়সুড়ি দেওয়া যায়। তবে ভারতে কত সংখ্যক মহিলা সিঁদুর পরেন? আর কত সংখ্যক মহিলা সিঁদুর পরেন না? ভারতের প্রধানমন্ত্রী সর্বত্র একটা ক্ষুদ্রাংশের দ্বারা চালিত হচ্ছেন। তাহলে উনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলেন না। উনি একটি অংশের প্রধানমন্ত্রী হলেন। যার দৃষ্টিভঙ্গি এমন, তিনি দেশ চালাবেন?”

এরপরই বিকাশরঞ্জন সিঁদুর পরার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “অনেক আধুনিক ব্যক্তিই সিঁদুর পরেন না। কেন পরবেন? আমরা যদি এই সিঁদুরের পিছনের কারণটা খুঁজতে যাই, তার উৎসটা কী? সেটা কি নারী স্বাধীনতার পক্ষে উজ্জ্বল? এগুলো তো অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে না?”

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে রাজ্যে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন করে পাল্টা তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, “আমরা সিঁদুরকে সম্মান করি। মহিলারা নিজেদের স্বামীর থেকে সিঁদুর পরেন। উনি সেই সিঁদুরকেই অসম্মান করছেন।” এই রাজনৈতিক বাগ্‌যুদ্ধের মাঝেই বিকাশরঞ্জনের এই মন্তব্য যেন বিতর্ককে আরও উস্কে দিল। এখন দেখার, এই ‘সিঁদুর’ বিতর্ক আগামী দিনে আর কতদূর গড়ায়।