তৃষ্ণার্ত ডানায় অমৃতের ছোঁয়া! কলেজ পড়ুয়াদের অভিনব প্রয়াসকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সকলে

আসাননগর মদনমোহন তর্কালঙ্কার কলেজের এন.এস.এস ইউনিটের সদস্যরা যেন এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। গ্রীষ্মের দাবদাহে কাতর পাখিদের জন্য তারা তৈরি করেছেন প্রায় সাড়ে তিনশো ‘জলদানি’ – বার্ড ফিডার। আর এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হল, একটিও কেনা নয়! ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের বাড়িতে পড়ে থাকা জলের বা কোল্ড্রিংসের বোতল এনে, সেগুলোকে পরম যত্নে কেটে, তাতে লাঠি লাগিয়ে রূপ দিয়েছে ছোট্ট ছোট্ট জীবনদায়ী পাত্রে। একদিকে যেমন পরিত্যক্ত বোতল পুনর্ব্যবহার করে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তেমনই তীব্র গরমে তৃষ্ণার্ত পাখিদের জন্য জুগিয়ে তোলা হচ্ছে শীতল জল।
কলেজের প্রিন্সিপাল ডঃ অশোক কুমার দাস এই উদ্যোগকে সময়ের দাবি মেনে অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এন.এস.এস টিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই পৃথিবীতে আমাদের যেমন বাঁচার অধিকার আছে, তেমনই অন্যান্য জীবকুলেরও রয়েছে। তাই সাধ্যমতো সকলের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সাহায্য করাই মনুষ্যত্ব। এই বার্ড ফিডার তৈরির প্রচেষ্টা তেমনই একটি ক্ষুদ্র কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
অধ্যাপক ডঃ অনিরুদ্ধ সাহা এই কর্মসূচিটিকে কমিউনিটি আউটরিচ প্রোগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিভিন্ন কলেজে NAAC মূল্যায়নের সময় এই বিষয়টি বিশেষভাবে দেখা হয়। আমাদের এই উদ্যোগ অ্যাকাডেমিক কার্যকলাপের বাইরেও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়। শুধু মূল্যায়ন নয়, নিজেদের হাতে তৈরি করা ফিডার থেকে যখন বিভিন্ন প্রজাতির পাখিকে জল পান করতে দেখি, তখন এক অনির্বচনীয় আনন্দ হয়। এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।”
আসাননগর কলেজ তার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। চারপাশে অজস্র গাছ আর তাতে বিভিন্ন পাখির অবাধ আনাগোনা। কলেজের এই মানবিক পদক্ষেপে স্থানীয় পক্ষীকুল যে উপকৃত হবে, তা বলাই বাহুল্য। গ্রীষ্মের এই রুক্ষ দিনে, এক ঝাঁক তৃষ্ণার্ত ডানার জন্য শীতল জলের ব্যবস্থা – সত্যিই এক সুন্দর দৃষ্টান্ত। পরিত্যক্ত বোতলগুলো যেন পেল নতুন জীবন, আর পাখিরা পেল বেঁচে থাকার নতুন আশা।