গর্ভপাত না করায় স্ত্রীর উপর নির্যাতন! পেটে লাথি মেরে রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় ফেলে রাখেন স্বামী

গর্ভপাত করাতে রাজি না হওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর উপর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। মালদার বৈষ্ণবনগর থানার নন্দলালপুর এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীর নাম সাদ্দাম হোসেন। অভিযোগ, মারধরের ফলে গুরুতর আহত অবস্থায় গৃহবধূ পপি খাতুন বর্তমানে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জানা গেছে, বছরখানেক আগে কৃষ্ণপুর মুরাদটোলার বাসিন্দা পপি খাতুনের সঙ্গে নন্দলালপুরের সাদ্দাম হোসেনের বিয়ে হয়। পপির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই সাদ্দাম একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং এ নিয়ে প্রায়শই পপির উপর নির্যাতন চালাতেন। সম্প্রতি পপি গর্ভবতী হলে, সাদ্দাম তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। পপি রাজি না হওয়ায় তার উপর শুরু হয় নির্মম মারধর। অভিযোগ, সাদ্দাম পপির পেটে লাথি মেরে তাকে রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় ফেলে রাখেন।
শুধু তাই নয়, পপির দাদা আসাদুল শেখ অভিযোগ করেছেন, বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সাদ্দামের পরিবারের সদস্যরা তাদের দুই ভাইকেও বেধড়ক মারধর করেন। রবিবার এই ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় পপিকে প্রথমে বেদরাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে এবং পরে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পপির পরিবারের পক্ষ থেকে বৈষ্ণবনগর থানায় সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত সাদ্দাম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়িতে এসে ঝামেলা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, তবে তদন্তের পর যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।