দেশে কি আবারও হবে লকডাউন? ফের বাড়ছে সংক্রমণ, বাংলায় কত অ্যাক্টিভ কেস?

যেন এক পুরনো সুর আবারও ভেসে আসছে বাতাসে। অতিমারীর সেই কঠিন দিনগুলো হয়তো এখনও স্মৃতিতে টাটকা, আর তারই মাঝে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে চেনা শত্রু – করোনা। ভারতে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ফের ঊর্ধ্বমুখী, পৌঁছেছে ৩,৭৫৮-এ। এই মুহূর্তে সংক্রমণের শীর্ষে কেরালা, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১,৪৩৫। এরপরই রয়েছে মহারাষ্ট্র।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের রবিবারের বুলেটিন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৬০ জন সংক্রমিত হয়েছেন। যদিও স্বস্তির খবর, একই সময়ে মাত্র দুটি কোভিড-১৯-সম্পর্কিত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে – কেরালা এবং কর্ণাটকে একজন করে।
রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে দেখা যাচ্ছে, কেরালার পরেই মহারাষ্ট্র (৫০৬ জন) এবং দিল্লি (৪৮৩ জন)-তে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বেশি। গুজরাটেও ৩৩৮ জন কোভিড-১৯ আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।
বাংলার চিত্রও কিছুটা উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে ৮২ জন নতুন করে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে এই মুহূর্তে রাজ্যে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২৮৭। যদিও কিছুটা স্বস্তি এই যে, পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসার পর ছয় জনকে ছাড়া হয়েছে।
ওড়িশার জনস্বাস্থ্য অধিকর্তা জানিয়েছেন, তাদের রাজ্যে সক্রিয় কোভিড রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২, তবে সকলেরই মৃদু উপসর্গ এবং তারা আপাতত আইসোলেশনে রয়েছেন।
অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশে এখনও পর্যন্ত ৩০ জন করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী দেশব্যাপী সংক্রমণ বৃদ্ধিতে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন। তিনি রেলস্টেশন, বাস স্ট্যান্ড, বিমানবন্দরের মতো জনবহুল স্থান এড়িয়ে চলতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
হরিয়ানার গুরুগ্রামে সোমবার নতুন করে চারটি কোভিড আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে, যা সেখানকার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২৮-এ পৌঁছে দিয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জন বর্তমানে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।
পাঞ্জাবে এই মুহূর্তে ছয়জন সক্রিয় কোভিড রোগী রয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজন লুধিয়ানা থেকে। একজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
এই মুহূর্তে সংক্রমণের গতি হয়তো আগের মতো ভয়াবহ নয়, তবে ভাইরাসের আনাগোনা যে এখনও থামেনি, এই পরিসংখ্যান তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাই মাস্ক পরা এবং সাবধানে থাকার উপর জোর দিচ্ছেন। হয়তো আবারও সেই পুরনো সতর্কতাগুলো মেনে চলার সময় এসেছে, যাতে এই মৃদু ঢেউ বড় আকার নিতে না পারে।