শিলিগুড়িতে বনধের মিশ্র সুর! কোথাও স্তব্ধতা, কোথাও প্রতিরোধের ফিসফাস

শিলিগুড়ির সকালটা আজ অন্যরকম। বঙ্গীয় হিন্দু মহামঞ্চ এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ডাকা বনধে শহরের বুকে নেমে এল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কোথাও বাজারের ঝাঁপ বন্ধ, হাঁটাচলার চেনা কোলাহল স্তিমিত। রাস্তায় সরকারি বাস দেখা গেলেও, বেসরকারি বাস, অটো বা অন্য চেনা যানবাহনগুলো যেন উধাও।
সকাল হতেই বনধের সমর্থনে পথে নেমেছিলেন মহামঞ্চ ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা। শিলিগুড়ির জলপাই মোড় যেন প্রতিরোধের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই পথে কাঁটা বিছাল পুলিশ। বনধ সমর্থনকালে পিকেটিং করতে গেলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ৭ জন সদস্যকে পাকড়াও করে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। অন্যদিকে, হাসমি চকে সরকারি এনবিএসটিসি বাস আটকে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা হয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে সেই উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্র, শিলিগুড়ির রেগুলেটেড মার্কেটও আজ সকাল থেকে খাঁ খাঁ করছে। বনধের আবহে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। রেগুলেটেড মার্কেট থেকে হাসমি চক, প্রধাননগর, গুরুংবস্তি, মাটিগাড়া – সর্বত্রই বনধ সমর্থনকারীদের পিকেটিং চোখে পড়েছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় লোকজনের আনাগোনা কিছুটা বেড়েছে। সরকারি বাস চললেও যাত্রীর সংখ্যা ছিল নিতান্তই কম।
এই বনধের নেপথ্যে রয়েছে গত ২৯শে মে মাটিগাড়ার টুম্বাজো এলাকার একটি ঘটনা। অভিযোগ, একটি চারচাকা পিকআপ ভ্যানে করে মাংস পাচার হচ্ছিল। স্থানীয়রা গোমাংস পাচারের অভিযোগ তুলে গাড়ি আটকে ভাঙচুর করে। এর প্রতিবাদে সরব হয় বঙ্গীয় হিন্দু মহামঞ্চ ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সেই প্রতিবাদের জেরেই মাটিগাড়ায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। এখানেই শেষ নয়, অভিযোগ ওঠে প্রতিবাদের পর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক কর্মীর বাড়িতে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় এবং তাঁকে মারধর করে। গুরুতর জখম হন ওই কর্মী। এই ঘটনার জেরেই আজ, সোমবার শিলিগুড়িতে বনধের ডাক দেয় এই দুই সংগঠন।
মহামঞ্চের কার্যকরী কমিটির সদস্য মান্না ভদ্র স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমাদের কর্মীদের উপর দুষ্কৃতীদের আক্রমণের প্রতিবাদেই এই ২৪ ঘণ্টার বনধ। ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ – অনেকেই এই বনধকে সমর্থন জানিয়েছেন।”
শিলিগুড়ির রাস্তায় আজ তাই নীরবতার এক চাপা সুর। কোথাও বনধের কড়া নিদান, আবার কোথাও দৈনন্দিন জীবনের চেনা ছন্দ ধরে রাখার চেষ্টা। এই মিশ্র প্রতিক্রিয়াই যেন বলে দিচ্ছে, একটি ঘটনার রেশ কতদূর পর্যন্ত গড়াতে পারে। এখন দেখার, এই বনধের অভিঘাত শেষ পর্যন্ত শহরের জনজীবনে কতটা প্রভাব ফেলে।