দেশজুড়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, একদিনেই নতুন করে সংক্রমিত ৮২ জন!

বছরখানেক আগে বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালানো করোনাভাইরাস যেন আবারও ধীরে ধীরে ফিরে আসছে। সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনও টাটকা থাকতেই, দেশজুড়ে এবং বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অনেকেই যখন ভেবেছিলেন, ভয় কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব, তখনই এই পরিসংখ্যান নতুন করে ভাবাচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্তাদের।

শনিবার পর্যন্ত দেশজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৫৮-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি বিশেষভাবে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ২৮৭। একদিনেই নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৮২ জন, যা ২৬শে মে’র মাত্র ১২ জনের পরিসংখ্যানের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে সংক্রমণের এই উল্লম্ফন রাজ্য প্রশাসনকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে।

রাজ্য সরকার এই হঠাৎ সংক্রমণ বৃদ্ধিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর সম্প্রতি একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, গত দুই সপ্তাহে যারা করোনা পজিটিভ হয়েছেন, তাদের নমুনা সংগ্রহ করে জিন বিশ্লেষণের (জিনোম সিকোয়েন্সিং) জন্য পাঠাতে হবে। কলকাতার ‘স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন’-এর ভাইরোলজি ইউনিটে এই নমুনাগুলি পরীক্ষা করা হবে।

এছাড়াও, সমস্ত বেসরকারি ল্যাবগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন বিগত দু’সপ্তাহের মধ্যে সংগৃহীত কোভিড পজিটিভ নমুনাগুলি অবিলম্বে সরকারের নির্ধারিত কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো, ভাইরাসের প্রকৃতি বা রূপ বদল ঘটেছে কিনা, তা দ্রুত শনাক্ত করা। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, এখন থেকে প্রতিটি করোনা পজিটিভ নমুনারই জিন বিশ্লেষণ করা হবে।

যদিও বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। অধিকাংশ আক্রান্তই বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং তাদের অবস্থা গুরুতর নয়। তবে পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে কারণেই প্রশাসন আগেভাগেই ব্যবস্থা নিচ্ছে। চিকিৎসক মহল বারবারই বলছে, আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলার একমাত্র উপায়। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং নিয়মিত হাত ধোওয়া – এই 기본적인 নিয়মগুলি মানলেই সংক্রমণ অনেকটাই কমানো সম্ভব। আপনার সুরক্ষা আপনার হাতেই।