৪৭-এ সব শেষ! আর ফেরা হল না বাড়িতে…, শোকের ছায়া বিনোদন জগতে, প্রয়াত বিখ্যাত পরিচালক বিক্রম সুগুমারন

বিনোদন জগতে নেমে এল এক বিরাট দুঃসংবাদ। সোমবার চেন্নাইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা বিক্রম সুগুমারন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৭ বছর। এই জনপ্রিয় পরিচালকের আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ঢেউ উঠেছে গোটা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে।
জানা গিয়েছে, মাদুরাই থেকে এক প্রযোজককে নতুন চিত্রনাট্য শুনিয়ে ফেরার পথেই বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন বিক্রম সুগুমারন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পরিচালক হিসেবে বিক্রম সুগুমরনের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে, পরিচালক বালু মহেন্দ্রের সহকারী হিসেবে। পরবর্তীতে, ‘মাধা যানাই কুতম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি স্বতন্ত্র পরিচিতি লাভ করেন। গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত এই ছবিটি গল্পের জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। তাঁর পরিচালিত শেষ ছবি ছিল ‘রাবন কোট্টম’, যেখানে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শান্তনু ভাগ্যরাজ।
বিক্রম সুগুমরনের আকস্মিক মৃত্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকের ঝড় উঠেছে। তাঁর অসংখ্য ভক্ত এবং তামিল চলচ্চিত্র জগতের বহু তারকা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রয়াত পরিচালককে শ্রদ্ধা জানিয়ে অভিনেতা শান্তনু তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ লিখেছেন, ‘প্রিয় ভাই। তোমার কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি এবং প্রতিটি মুহূর্ত আমি সবসময় মনে রাখব। তুমি খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে। তোমার অভাব বোধ হবে।’
পরিচালক বিক্রম সুগুমারন ‘থেরাম পোরম’ নামে একটি নতুন প্রজেক্টের কাজ করছিলেন। সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন যে ইন্ডাস্ট্রির কিছু ব্যক্তি তাঁকে প্রতারণা করেছে। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। পরিচালকের ঘনিষ্ঠ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মাদুরাইয়ের এক প্রযোজককে চিত্রনাট্য শুনিয়ে বাসযোগে চেন্নাই ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
বিক্রম সুগুমারন তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের রেখে গেছেন, যারা চেন্নাইতে বসবাস করেন। গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নির্মিত চলচ্চিত্রের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণ তামিল সিনেমার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।