‘সিঁদুর বেচতে এসেছেন’! শাহের ‘অপারেশন বাংলা’ মন্তব্যে, তৃণমূলের ৩ নেত্রীর তীব্র আক্রমণ

জামাইষষ্ঠীর দিনে কলকাতার নেতাজি ইন্ডোরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই তাঁর মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন তৃণমূলের তিন শীর্ষস্থানীয় নেত্রী। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ, লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিজেপির ‘অপারেশন বাংলা’ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।
গণতন্ত্র ও হিংসা নিয়ে শাহকে পাল্টা:
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “অমিত শাহ এসেছেন, কর্মীসভা করেছেন। আজ জামাইষষ্ঠী। আজ সভা করলেন নেতাজি ইন্ডোরে, যেটা রাজ্য সরকারের একটি স্টেডিয়াম। সেখানে কর্মী সভা করার পারমিশন কিন্তু রাজ্য দিচ্ছে। এটা অন্য কোনও রাজ্যে হলে অনুমতি কি পাওয়া যেত? আমাদের নেত্রী গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন।” নির্বাচনে হিংসা নিয়ে শাহের আক্রমণের জবাবও দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “অমিত শাহ বললেন আমাদের ইলেকশন ভায়োলেন্স করেই জিততে হবে। নাহলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আপনি বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভায়োলেন্স করবেন। ইলেকশন করাবেন কে? ইলেকশন কমিশন। কীভাবে বললেন এই কথা?”
‘অপারেশন সিঁদুর’ ও ‘অপারেশন বেঙ্গল’ নিয়ে বিতর্ক:
‘অপারেশন বাংলা’ নিয়ে বিজেপিকে তোপ দাগেন চন্দ্রিমা। তিনি বলেন, “আগেও বলেছি অপারেশন সিঁদুর নিয়ে মেয়েদের অপমান। আগেও পিএম করেছেন। অপারেশন বেঙ্গল আবার কী? আপনারা ন্যাশনাল ইলেকশন কমিশনকে ব্যবহার করছেন।”
পহেলগাঁও কাণ্ড নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা। তিনি বলেন, “পহেলগাঁও আপনার কাছে খবর ছিল না। আপনি ব্যর্থ। আপনাদের গাফিলতিতেই এত লোক মারা গেল। যখন আমরা দেশের স্বার্থে রাজনীতি ঊর্ধ্বে গিয়ে কথা বলেছি, তখন এসে রাজনীতি করছেন। কত টাকা দিয়েছেন? প্রাপ্য টাকা দেননি। পুরো টাকা দিচ্ছেন না।” শাহের পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকেও আক্রমণ করেন চন্দ্রিমা। তিনি বলেন, “আপনি তো সভাপতির নামও ঠিক করে বললেন না। সেটাই জানেন না। আপনাদের সভাপতি মেয়েদের অপমান করেছেন। তার পদত্যাগ দাবি করছি। তিনি নাকি শিক্ষক?”
‘ভারতীয় হিসেবে মর্মাহত’: কাকলি ঘোষ দস্তিদার:
লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “ভারতীয় হিসেবে আমি মর্মাহত। একটি সভা করার অনুমতি পেয়ে তার সদ্ব্যবহার করতে পারলেন না। মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান। সিঁদুর বেচতে এসেছেন। পিএম, অমিত শাহ বলছেন। শিক্ষা মন্ত্রী যা বললেন মহিলারা রাস্তায় নেমে জবাব দেবেন। খুব সাবধানে, যেখানে হাত দিছেন হাত জ্বলে যাবে। চ্যালেঞ্জ করছেন? আগামী দিনে ২৫০ উপর সিট নিয়ে ক্ষমতা আসবে। মাননীয়া আবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন। একটু রাজনৈতিকভাবে পড়াশোনা করুন না। বর্ডার আপনার অধীনে। সেখানে পাহারা দিচ্ছে আপনার অধীনে থাকা ফোর্স। অনুপ্রবেশ ঘটলে আপনাকে দায়িত্ব নিতে হবে। আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে। সুকান্ত মজুমদারের পদত্যাগ দাবি করছি। জুনিয়র মিনিস্টার আজকে যে কদর্য কথা বলেছেন আমি মুখে নিলাম না। একজন শিক্ষক মন্ত্রী বলতে পারেন?”
তৃণমূলের এই তিন নেত্রীর কড়া প্রতিক্রিয়া অমিত শাহের মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।