আইসিকে হুমকির জেরে বিপাকে তৃণমূল ছাত্রনেতা, বিক্রমজিৎ সাউ সাসপেন্ড, পুলিশি মামলা রুজু

বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে ফেসবুক লাইভে হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগে বীরভূম জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিক্রমজিৎ সাউয়ের বিরুদ্ধে সিউড়ি থানায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। খবর পেতেই তড়িঘড়ি বিক্রমজিৎকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল। রাজ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য এই মর্মে চিঠি দিয়েছেন।
আইসিকে ‘দেখে নেওয়া হবে’ থেকে ‘তোলাবাজ’:
তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল আইসিকে গালিগালাজের জেরে যখন রাজ্যজুড়ে সমালোচিত, সেই আবহে বিক্রমজিৎ সাউয়ের এই ফেসবুক লাইভ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিক্রমজিৎকে তাঁর লাইভে আইসি লিটন হালদারকে ‘দেখে নেওয়া হবে’ থেকে শুরু করে ‘তোলাবাজ’ প্রভৃতি বলতে শোনা যায়।
বিতর্কের সূত্রপাত ও দলের পদক্ষেপ:
সিউড়ি পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা সিউড়ি পৌরসভার উপ-পৌরপতি বিদ্যাধর সাউয়ের ছেলে বিক্রমজিৎ, বীরভূম জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি পদে রয়েছেন। গত ৩১ মে রাতে তিনি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি লাইভ করেন। সেখানে বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে রীতিমতো হুমকি, হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, “অনুব্রত মণ্ডলের মত শক্তিশালী নেতার কিছুই করতে পারবেন না আপনি।” এছাড়াও, আইসিকে ‘তোলাবাজ’, ‘বালি মাফিয়াদের সঙ্গে যুক্ত’, ‘টাকা তুলে বেড়ান’ প্রভৃতি শব্দেও জর্জরিত করা হয়।
মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির জেলা নেতা-কর্মীরাও সেই ভিডিয়ো পোস্ট করে প্রতিবাদে সরব হন। পরে অবশ্য বিক্রমজিৎ সেই পোস্ট মুছে ফেলেন। এরপরেই সিউড়ি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, আইসিকে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে রাজ্যজুড়ে নিন্দিত তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁকে ক্ষমা চাইতে হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছে। তিনি এখনও জামিন পাননি। এই আবহে তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের বীরভূম জেলা সভাপতি বিক্রমজিৎ সাউয়ের মন্তব্য রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলেছে দলকে। অনুব্রতর বিরুদ্ধে দল এখনও কড়া ব্যবস্থা না নিলেও বিক্রমজিৎকে দ্রুত ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করে দেওয়া হলো।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য সাসপেন্ড চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, এটি ‘দল বিরোধী কাজ’ এবং দল এই কাজকে সমর্থন করে না। যদিও এই বিষয়ে বীরভূমের কোনো তৃণমূল নেতা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ।