কোভিড কাঁটা ফের? আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ছুঁইছুঁই, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ কেড়েছে ৭ জনের

স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার অবকাশ বুঝি আর মিলছে না! দেশে ফের বাড়ছে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ। কয়েক দিনের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁতে চলেছে তিন হাজারের দোরগোড়ায়। এই তো সেদিনও সংখ্যাটা ছিল হাজারের ঘরে, আর আজ তা তিনগুণ! স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের শনিবারের বুলেটিন বলছে, ভারতে এই মুহূর্তে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ২,৭১০। আর এই তালিকার শীর্ষে সেই পরিচিত নাম – কেরালা।

দীর্ঘ কয়েক মাস স্থিতিশীল থাকার পর, ফের যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্ট। আর তার প্রধান আঁতুড়ঘর যেন এই মুহূর্তে কেরালাই। সংক্রমণের গতি সেখানে রীতিমতো উদ্বেগজনক। তবে শুধু কেরালাই নয়, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, হায়দ্রাবাদ এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতেও বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেরলে এখনও পর্যন্ত ১,১৪৭টি কোভিড কেস ধরা পড়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র (আক্রান্ত ৪২৪)। রাজধানী দিল্লি রয়েছে তৃতীয় স্থানে, যেখানে ২৯৪ জন সংক্রমিত। গুজরাটেও ২২৩ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। কর্ণাটক এবং তামিলনাড়ুতেও ১৪৮টি করে কোভিড কেস রেকর্ড করা হয়েছে। পিছিয়ে নেই পশ্চিমবঙ্গও, এখানেও ১১৬ জন মারণ ভাইরাসের শিকার।

শুধু সংক্রমণই নয়, বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মহারাষ্ট্রে কেড়েছে দু’জনের প্রাণ। দিল্লি, গুজরাট, কর্ণাটক, পাঞ্জাব এবং তামিলনাড়ুতেও একজন করে কোভিড রোগী মারা গিয়েছেন। গত পাঁচ মাসে এই মারণ ভাইরাস দেশে কেড়ে নিয়েছে মোট ২২টি জীবন।

তাহলে কি ফের সেই পুরনো আতঙ্ক গ্রাস করতে চলেছে? স্বাস্থ্য মন্ত্রক অবশ্য পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে বলে জানিয়েছে। তবে যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। মাস্ক হয়তো এখনও বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু সাবধানে থাকাটা তো জরুরি। কারণ, রোগের আগমন টের পাওয়া যায় না, কিন্তু তার ধাক্কা টের পাওয়া যায় পদে পদে।