“পার্লামেন্ট উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি!”-প্রাক্তন বিধায়ককে ৬ মাসের কারাদন্ড দিলো আদালত

দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা, ভারতীয় গণতন্ত্রের মন্দির পার্লামেন্টকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন বিধায়ক কিশোর সম্রিতকে ছয় মাসের কারাদণ্ডের সাজা শোনাল দিল্লির একটি আদালত। বিচারপতি বিকাশ ধুল এই ঘটনাকে ‘নিন্দার কাজ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রাক্তন বিধায়ককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে, যখন প্রাক্তন বিধায়ক কিশোর সম্রিত ডিনামাইট দিয়ে সংসদ ভবন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছিল, বিধায়ক হিসেবে তাঁর দাবি পূরণ না হওয়ার জেরেই তিনি এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আদালত এই আচরণকে কঠোরভাবে নিন্দা করে বলেছে, “ভারতীয় গণতন্ত্রের মন্দির পার্লামেন্ট। সেখানে এমন হুমকিমূলক চিঠি এবং সন্দেহজনক পদার্থ পাঠানো নিন্দার কাজ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”

বিশেষ বিচারপতি বিকাশ ধুল তাঁর রায়ে কিশোর সম্রিতকে তীব্র তিরস্কার করে বলেন, “জনসাধারণের হিতার্থে তাদের দাবি সংসদে তুলে ধরা হয় এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সংহতি রেখে সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেখানে দেশের গণতন্ত্রের মন্দিরকে নিয়ে এমন হুমকির জন্য উপযুক্ত শাস্তির প্রয়োজন।”

বিচারপতি আরও বলেন, “এটা অত্যন্ত লজ্জার ও উল্লেখ্য বিষয় যে দোষী ব্যক্তি কেবল একজন সাধারণ নাগরিক নন, বরং মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলার লাঞ্জির একজন প্রাক্তন বিধায়ক। এই ধরনের আচরণে কড়া পদক্ষেপ না নিলে, অন্যদেরও সরকারি নীতির বিরুদ্ধে ভিন্নমত প্রকাশের জন্য সম্রিতের মতোই এই পথ অনুসরণ করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।”

২০২২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে একটি পার্সেল আসে। সেই পার্সেলের ভেতরে বিস্ফোরকের মতো কিছু সন্দেহজনক পদার্থ, একটি ভারতীয় পতাকা এবং সংবিধানের একটি অনুলিপি ছিল। বালাঘাটের লাঞ্জির প্রাক্তন বিধায়ক সম্রিতই এই চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যেখানে স্পষ্ট ভাষায় সংসদ ভবন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই হুমকিকে আগুন দিয়ে সম্পত্তি ধ্বংস করার হুমকি হিসেবে গণ্য করা হয়, যার ফলে কিশোর সম্রিতকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারার দ্বিতীয় অংশের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শোনানো হয়েছে।

এই রায় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি হুমকি প্রদানকারীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে।