“স্পেশাল অ্যাপে সীমান্তপারে যোগাযোগ!”-কাশ্মীর জুড়ে জঙ্গিদের খোঁজে চলছে বিশেষ অভিযান

জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে এবার ‘কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর’ (CIK) শুরু করেছে এক বিশাল তল্লাশি অভিযান। সম্প্রতি জঙ্গি সন্দেহে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ‘এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ’-এর যে হদিশ মিলেছে, তা ঘিরেই এই অভিযান। গোয়েন্দাদের ধারণা, এই অ্যাপগুলোই সীমান্তের ওপারের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগাযোগের মূল মাধ্যম। এই পুরো চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতেই সিআইকে উপত্যকায় ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, আজ শুক্রবার উপত্যকার সোপিয়ান, কুলগাম, বাডগাম, অবন্তীপুরা, পুলওয়ামা, কুপওয়ারা এবং শ্রীনগর – এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে হানা দিয়েছেন সিআইকে সদস্যরা। গত ২২ এপ্রিল বৈসরন-পহেলগাঁও-এ ২৬ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জন পর্যটক ছিলেন। এই হামলার পর থেকেই গোটা উপত্যকা জুড়ে, বিশেষ করে দক্ষিণ কাশ্মীরে জঙ্গি দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে।

পহেলগাঁও হামলার পর থেকে শুধু জঙ্গিদের বিরুদ্ধেই নয়, ভূস্বর্গে গা ঢাকা দিয়ে থাকা তাদের আশ্রয়দাতাদের খোঁজেও চলছে চিরুনি তল্লাশি। সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সন্দেহভাজনদের বাড়িঘর ধূলিসাৎ করে দেওয়া হচ্ছে। এই কঠোর অভিযান ‘অপারেশন কেলার’ নামে পরিচিত।

এই মাসের শুরুর দিকে, সোপিয়ানে ভারতীয় সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ-এর যৌথ অভিযানে লস্কর-ই-তৈবার দুই সদস্য – ইরফান বশির ও উজায়ের সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তারা আত্মসমর্পণ করেছিল। ধৃতদের কাছ থেকে দুটি একে-৫৬ রাইফেল, চারটি ম্যাগাজিন, দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড এবং প্রচুর গুলি উদ্ধার হয়েছিল।

তারও আগে, পুলওয়ামার ত্রাল এলাকায় একটি অভিযানে জয়শ-ই-মহম্মদের তিন জঙ্গিকে খতম করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। ড্রোন ফুটেজে জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার ভিডিও ফুটেজ পাওয়ার পরই নিরাপত্তা বাহিনী এই সফল অভিযানে নেমেছিল।

সিআইকে-র এই নতুন অভিযান কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে গড়ে ওঠা গোপন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া গেলে সীমান্তপারের মদতকারীদের সঙ্গে স্থানীয় জঙ্গিদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে, যা উপত্যকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।