“ভূস্বর্গ নিরাপদ…’, পর্যটক ফেরাতে জম্মু ও কাশ্মীরে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ

গত ২২শে এপ্রিল পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন (২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় টাট্টুচালক) নিহত হওয়ার পর কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটন শিল্পে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল, তা থেকে উত্তরণের জন্য এবার দেশজুড়ে এক বিশাল উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৬০ সদস্যের একটি ট্যুর অপারেটর প্রতিনিধি দল কাশ্মীরে এক ‘সংহতি যাত্রা’ শুরু করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ভূস্বর্গে পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই দলে দেশের ২৬টি শীর্ষস্থানীয় ট্যুর অপারেটর সংস্থার সদস্যরা রয়েছেন। মহারাষ্ট্রের রাজা রানি ট্রাভেলসের কর্ণধার অভিজিৎ পাটিল এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি এই সফরের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “এই সফর কেবল একটি সংহতি যাত্রা নয়, বরং কাশ্মীরের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর একটি প্রয়াস।” এই উদ্যোগ উপত্যকার পর্যটনকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তাঁদের বিশ্বাস।

পহেলগামের ট্যুর অপারেটরদের এই প্রতিনিধি দলটি ইতিমধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও সাইকেল চালিয়ে পহেলগামের রাস্তায় ঘুরে পর্যটকদের জন্য উপত্যকা নিরাপদ বলে বার্তা দিচ্ছেন। একই সাথে, জম্মু ও কাশ্মীর সরকার পহেলগামের বৈসরণ ভ্যালিতে নিহতদের স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরির পরিকল্পনা করছে।

পর্যটকদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জম্মু-কাশ্মীর সরকার দেশজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। বুধবার একটি বিশেষ বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তাদের কাশ্মীরে আসতে উৎসাহিত করার বিষয়ে আলোচনা করবেন।

যদিও ২২শে এপ্রিলের জঙ্গি হামলার আতঙ্ক পহেলগামে এখনও কাটেনি এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী ও পুলিশ উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত টহল দিচ্ছে, তবুও পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্তরা আশাবাদী। আগামী ৩রা জুলাই থেকে শুরু হতে চলা অমরনাথ যাত্রার প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা নিয়েও মঙ্গলবারের কাশ্মীর মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই যাত্রা, যেখানে বহু তীর্থযাত্রী বালতাল ছাড়াও পহেলগাম হয়ে অমরনাথ যান, তা উপত্যকার পর্যটন পুনরুদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।