রাজ্যে ৪৪,২০৩ শূন্যপদে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! কীভাবে করবেন আবেদন? জানুন বিস্তারে

রাজ্যে বেকারত্বের সংখ্যা যখন হু হু করে বাড়ছে, তখন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আশার আলো দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি রাজ্যে বিশাল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী ৩১ মে-র মধ্যেই নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।
কেন এই নিয়োগ?
২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট পুরো প্যানেল বাতিল করে দেয়। এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা তাঁদের চাকরি হারান। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকার নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে বলেন, “সরকার চায় না যে, কেউ চাকরি হারাক।” তিনি আরও জানান যে, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে। তাঁর কথায়, “আমরা সংবিধান মেনেই চলছি। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে রাজ্যকে বিপাকে পড়তে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, যদি রিভিউতে রায় রাজ্যের অনুকূলে আসে, তাহলে হয়তো কাউকে চাকরি হারাতে হবে না। তবে তার আগে আদালতের নির্দেশ মেনে চলতে হবে, তাই এই নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি।
শূন্যপদের সংখ্যা ও পদবিন্যাস
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৪,২০৫টি শূন্যপদের কথা ছিল। তবে এর পাশাপাশি রাজ্য সরকার আরও কিছু নতুন পদ যুক্ত করছে। ফলে মোট ৪৪,২০৩টি পদে শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ করা হবে।
এই পদগুলির বিভাজন নিম্নরূপ:
নবম-দশম শ্রেণীর শিক্ষক: ২৩,২১০ জন
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক: ১২,৫১৪ জন
গ্রুপ সি পদ: ২৯৮৯ জন
গ্রুপ ডি পদ: ৫৪৮৮ জন
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আবেদন প্রক্রিয়া
নবান্নের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে ৩০ মে-র মধ্যেই। অনলাইনে আবেদন শুরু হবে ১৬ জুন থেকে এবং আবেদন চলবে ১৪ জুলাই পর্যন্ত। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে ১৫ নভেম্বর এবং কাউন্সিলিং শুরু হবে ২০ নভেম্বর থেকে। সুপ্রিম কোর্ট ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। একই সাথে, চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে আশা বজায় রাখা হয়েছে।