পাকিস্তানের ভূগর্ভস্থ সামরিক পরিকাঠামোয় ভারতের নির্ভুল আঘাত, স্যাটেলাইট চিত্রে ফাঁস তথ্য!

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আওতায় গত ১০ মে পাকিস্তানের মুরিদ এবং নুর খান এয়ারবেসে চালানো টার্গেটেড স্ট্রাইকের নির্ভুলতা এবার স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়েছে। মার্কিন সংস্থা Maxar Technologies-এর তোলা হাই-রেজোলিউশন চিত্রগুলি ভারতীয় বায়ুসেনার নিখুঁত আক্রমণের প্রমাণ দিচ্ছে, যা পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।
মুরিদ এয়ারবেসের স্যাটেলাইট ছবিতে প্রায় ৩ মিটার চওড়া একটি গর্ত দেখা যাচ্ছে, যা একটি সুরক্ষিত সাব-কমপ্লেক্সের গেটের মাত্র ৩০ মিটার দূরে অবস্থিত। জিও-ইন্টেলিজেন্স গবেষক ড্যামিয়েন সাইমন বলেছেন, “এটা ছিল হাই ভ্যালু টার্গেট। জোড়া ফেন্সিং, গার্ড টাওয়ার—সব কিছু মিলিয়ে জায়গাটা একেবারে দুর্গ। সেখানে এমন নিখুঁত স্ট্রাইক করা নিঃসন্দেহে বড় বার্তা।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভূগর্ভস্থ কোনো স্ট্র্যাটেজিক ফ্যাসিলিটি, সম্ভবত ড্রোন অপারেশন বা কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছিল। এটিই প্রথমবার, যখন ভারত পাকিস্তানের ভূগর্ভস্থ সামরিক পরিকাঠামোকে সরাসরি টার্গেট করল। স্ট্রাইকে প্রিসিশন গাইডেড মিসাইল ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মুরিদ ঘাঁটির ইউএভি কমপ্লেক্সের পাশে একটি কমান্ড বিল্ডিংয়ের ছাদেও স্পষ্ট ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। এপ্রিলের ছবিতে ছাদ অক্ষত থাকলেও, ১০ মে-র স্ট্রাইক ছবিতে ছাদ ফেটে আছে এবং ভেতরের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি নুর খান এয়ারবেসেও ভারতীয় বায়ুসেনার আঘাত লেগেছে। এই ঘাঁটিতে সি-১৩০ হারকিউলিস, সাব-২০০০, আইএল-৭৮ রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানগুলি থাকে। স্যাটেলাইট চিত্র বলছে, দুটি মোবাইল ট্রেলার (সম্ভবত কমান্ড ইউনিট) পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ১৭ মে-র পরবর্তী ছবিতে দেখা গেছে, পাকিস্তানি ফোর্স ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিষ্কার করছে এবং মাটি খুঁড়ছে, যা ক্ষয়ক্ষতির গভীরতা নির্দেশ করে।
জম্মু-কাশ্মীরের লাইন অফ কন্ট্রোল থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে মুরিদ এয়ারবেস অবস্থিত। সারগোধা এবং নুর খান ঘাঁটির সঙ্গে মিলে এটি পাকিস্তানের যুদ্ধ প্রস্তুতির মেরুদণ্ড। সেখানেই এই আঘাত অনেকটাই সিগন্যাল সেন্ট্রিক—যার বার্তা স্পষ্ট: এবার টার্গেট শুধু ওপরে নয়, নিচেও।
এই হামলা কেবল একটি এয়ারস্ট্রাইক নয়, এটি একটি স্ট্র্যাটেজিক স্টেটমেন্ট। এ বার্তা যে শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা-রাজনীতির জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। স্ট্রাইক-পরবর্তী ছবি এবং ক্ষয়ক্ষতির ধরন দেখে স্পষ্ট, ভারতের এই মিশন ছিল নির্ভুল, পরিকল্পিত এবং গভীর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা—যা হয়তো ভারতের এয়ার স্ট্র্যাটেজিতে এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।