“আমাদের ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাববেন না”-কোরিয়া থেকে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি অভিষেকের

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দৃঢ় অঙ্গীকারের উপর জোর দিতে এবং একই সাথে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলে পৌঁছেছেন সর্বদলীয় ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিওলে এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তার বক্তৃতায় তিনি ভারত ও কোরিয়ার গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন, যেখানে বিশেষভাবে উঠে আসে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কোরিয়ানদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মিক যোগ বহু পুরনো। তিনি জানান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘দ্য ল্যাম্প অব দ্য ইস্ট’ কবিতাটি এখনও কোরিয়ান শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে পড়ানো হয়। এই প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “এই কবিতা দুই দেশের সভ্যতা ও মূল্যবোধের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। এটি আমাদের জাতীয় গর্ব।”
এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বে টুইটার) অভিষেক লিখেছেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোরিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আমার বক্তব্যের মূল অংশ ছিল। এমন একটি মুহূর্তে এই প্রসঙ্গ তোলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যখন আমরা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথা বলছি।”
কেবল সাংস্কৃতিক বন্ধনই নয়, অভিষেক তার বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারের ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, “এশিয়ার দুই প্রভাবশালী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করা আমাদের দায়িত্ব।” সিওলের এই আলোচনায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন ভাইস মিনিস্টার, রাষ্ট্রদূত ও থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদে সরাসরি মদদ জোগানোর বিষয়টি তীব্রভাবে তুলে ধরেন। তৃণমূল সাংসদের কথায়, “ভারতের প্রত্যাঘাতে নিহত জঙ্গিদের শেষকৃত্যে যাদের দেখা গেল, তারা কেউ সামান্য পাক জওয়ান নয়। সেনা প্রধান ও সেনার নানা বিভাগের কর্তা। পাকিস্তান যে সন্ত্রাসে সরাসরি মদদ জোগায়, এই ঘটনার পর তা কার্যত স্পষ্ট।”
তিনি আরও যোগ করেন, “পহেলগাঁও হামলার ২৪ ঘণ্টা পর TRF (দ্য রেজিস্টেন্স ফ্রন্ট) হামলার দায় স্বীকার করে। এই TRF কারা? এরা হল লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন। আর সেই লস্কর-জইশদের যখন ভারত মারল, তখন ওদেরই শেষকৃত্যে গিয়ে হাজির হল পাক সেনাকর্তা ও প্রধানরা।”
এর আগে অভিষেক জাপান সফরেও প্রতিনিধি দলের অংশ ছিলেন, যেখানে তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন এবং ভারতীয় বিপ্লবীদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার পর তার সফরসূচিতে রয়েছে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। এই ধারাবাহিক সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো— ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং ভারতীয় সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক প্রচারকে আরও শক্তিশালী করা।