চাকরির দায় রাজ্যের কাঁধে চাপালেন মোদী, নীতি আয়োগের বৈঠকে গরহাজির একাধিক মুখ্যমন্ত্রী

দু’কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা নরেন্দ্র মোদীর সরকার ১১ বছর পার করেও সেই আশ্বাস পূরণ করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে বেকারত্ব সমস্যার সমাধান এবং নতুন চাকরি তৈরির দায়িত্ব এবার রাজ্যগুলির কাঁধে চাপালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার দিল্লিতে নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের সব রাজ্যের উচিত বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য যাবতীয় নীতিগত বাধা দূর করা।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এই মর্মেই দাবি করেন, “কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলি টিম ইন্ডিয়ার মতো সমন্বয় রেখে কাজ করলে কোনো লক্ষ্যপূরণই অসম্ভব নয়।” দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ৩১টির প্রশাসনিক প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
অপারেশন সিঁদুরের আবহে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যমত
উল্লেখযোগ্যভাবে, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, কর্ণাটক, বিহার এবং পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রীরা শনিবারের নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দেননি। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আবহে ডাকা এদিনের বৈঠকে উপস্থিত সকলে একযোগে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের গৃহীত অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এদিনের বৈঠকে প্রতিটি রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের সমন্বয়ের উপরে জোর দেন।
‘বিকশিত ভারত’ অর্জনে রাজ্যের ভূমিকা
মোদী জানান, ২০৪৭ সালে দেশের স্বাধীনতার শতবর্ষের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তার কথায়, “আমাদের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে হবে। বিকশিত ভারত প্রত্যেক ভারতীয়ের লক্ষ্য। প্রতিটি রাজ্যের বিকাশ সম্ভব হলেই ভারতের বিকাশ হবে।” নীতি আয়োগের সিইও বিভিআর সুব্রহ্মণ্যম জানান, বিকশিত রাজ্য এবং বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে সব রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার, এই সিদ্ধান্ত বৈঠকে গৃহীত হয়েছে।
‘টিম ইন্ডিয়া’র বার্তা, কিন্তু বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের অনুপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ
রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ এদিনের বৈঠকের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক ও কেরালার মুখ্যমন্ত্রীদের অনুপস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এনডিএ-র শরিক হলেও এদিনের বৈঠকে যোগ দেননি। আর কয়েক মাসের মধ্যেই বিহারের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এদিনের নীতি আয়োগ গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠকে নীতীশের অনুপস্থিতিকে আদৌ ভালো ভাবে দেখছেন না বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের একটা বড় অংশ।
গত বছরের নীতি আয়োগ গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠকে যখন যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো লঙ্ঘনের বিষয়ে বক্তব্য রাখার চেষ্টা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন তার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এরপরে তার এদিনের বৈঠকে অনুপস্থিতি ইঙ্গিতবাহী বলে দাবি সরকারি সূত্রে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের নিরিখেই এদিনের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ।
বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে এদিনের বৈঠকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এবং ডিএমকে সুপ্রিমো এমকে স্ট্যালিনের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই মর্মেই উল্লেখযোগ্য হয়েছে হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতি। প্রধানমন্ত্রীর ‘টিম ইন্ডিয়া’র বার্তা সত্ত্বেও, বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির কিছু মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের বর্তমান সমীকরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।