“আমাকে ওঝার কাছেই নিয়ে চল…’”-সাপে কাটার পরে ঘোর অন্ধবিশ্বাসে মৃত্যু, শোকে পরিবার

সাপের কামড়ের পর ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ার জেরেই মর্মান্তিক মৃত্যু হলো পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রামের সোমাইপুর গ্রামের ৩৩ বছর বয়সী যুবক সোমাই মুর্মুর। মঙ্গলবার রাতে সাপে কামড়ানোর পর হাসপাতালে না গিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়াটাই কাল হলো বলে মনে করছে পরিবার ও স্থানীয়রা।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে সোমাই মুর্মু নিজের বাড়িতেই ঘুমোচ্ছিলেন। রাতের দিকে তাঁর বাঁ হাতে কিছু একটা কামড়েছে বলে তিনি বুঝতে পারেন। এরপর তাঁর কথাতেই পরিবারের লোকেরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে মঙ্গলকোট থানার গণপুর গ্রামের এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সারা রাত ধরে ওই ওঝা সোমাইয়ের উপর বিভিন্ন তুকতাক করেন এবং গাছের শিকড় বেঁটে খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সোমাই এতটাই নিস্তেজ হয়ে পড়ছিলেন যে তিনি কিছুই গ্রহণ করতে পারেননি।
পরিবার সূত্রে খবর, অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় একসময় ওঝাই সোমাইকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। এরপর বুধবার সকালে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা সোমাইকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতের দাদা শুকুর মুর্মু আক্ষেপ করে বলেন, “মঙ্গলবার রাতে ভাইয়ের বাঁ হাতে সাপে কামড়ায়। তারপর ভাইয়ের কথামতোই গাড়ি করে আমরা ওকে মঙ্গলকোট থানার গণপুর গ্রামে ওঝার কাছে নিয়ে যাই। সেখানে ওঝা বিভিন্ন গাছের শিকড় বেঁটে সোমাইকে খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সোমাই এতটাই নিস্তেজ হয়ে পড়ছিল যে এ সব আর খেতে পারেনি। এরপর ওঝার কথামতো আমরা ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
সোমাইয়ের এক প্রতিবেশী গৌতম রায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “প্রথমেই ওঝার কাছে নিয়ে গিয়ে সময় নষ্ট হয়েছিল। সেটা না করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে হয়তো সোমাইকে বাঁচানো যেত।” ভাইয়ের মৃত্যুর পর দাদারও একই আক্ষেপ, “ওঝার বাড়ি না গিয়ে আজ যদি সোমাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতো তাহলে ভাইকে বাঁচানো যেত।”
এই ঘটনা আবারও গ্রামীণ অঞ্চলে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় কুসংস্কারের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরল, যেখানে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রচলিত ভুল ধারণার উপর নির্ভর করে মূল্যবান জীবন নষ্ট হচ্ছে।