সংঘাতের সুযোগে বড় ‘চাল’ বাংলাদেশের! ভারতের আগেই পেয়ে গেল স্টারলিঙ্কের পরিষেবা

ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ‘স্টারলিঙ্ক’ ভারতে আসার অপেক্ষায় থাকলেও, রাজনৈতিক সংঘাত এবং দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় দেশ হিসেবে এই পরিষেবা চালু করে দিল। এর আগে ভুটানে স্টারলিঙ্ক চালু হয়েছিল।

স্টারলিঙ্ক সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে তাদের হাই স্পিড, লো-ল্যাটেন্সি ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হয়েছে এবং দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই এই পরিষেবা পাওয়া যাবে। এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

খরচ এবং সুবিধা:

জানা গেছে, স্টারলিঙ্কের এই পরিষেবা পেতে প্রাথমিকভাবে খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি হবে। প্রথমবার সেটআপের জন্য ৪৭ হাজার বাংলাদেশি টাকা (যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৯ হাজার টাকা) লাগবে। মাসিক সাবস্ক্রিপশন বাবদ ৪২০০ বাংলাদেশি টাকা (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৯৯০ টাকা) খরচ পড়বে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস স্টারলিঙ্কের এই পরিষেবা চালু হওয়ার পর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্টারলিঙ্কের এই পরিষেবা স্থিতিশীল ইন্টারনেট সরবরাহ করবে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়েও ইন্টারনেট পরিষেবা বিপর্যস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করবে।

ভারতের অপেক্ষারত যাত্রা:

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে স্টারলিঙ্ককে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং স্পেসএক্সের সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে পরিষেবা চালু করার কথা বলা হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করে স্টারলিঙ্ক এখন বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছে।

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা রয়েছে। ভারতেও স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। রিলায়েন্স জিও এবং এয়ারটেলের মতো টেলিকম সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বে এই পরিষেবা চালু হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। তবে, পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি ভারতে স্টারলিঙ্কের প্রবেশে কিছুটা বিলম্ব ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।