সীমান্তে উত্তেজনা ও চীনের আগ্রাসনের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ ও সিকিম সফর

মে মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তরবঙ্গ ও সিকিম সফরে আসছেন। আগামী ২৯ মে আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ড মাঠে একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। এরপর সেদিনই সিকিম যাবেন প্রধানমন্ত্রী, জানা গেছে সিকিম রাজ্যের ৫০তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এই সফর নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দেওয়া হলেও, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের দফতর থেকে এই সফরের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

অপারেশন সিঁদুর ও অরুণাচল নিয়ে চীনের বিতর্ক: গুরুত্বপূর্ণ এই সফর

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে চীনের বিবৃতিকে ভালো চোখে দেখেনি ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত কড়া বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, অরুণাচল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উল্লেখ্য, চীন অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি জায়গার নাম বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, যার তীব্র প্রতিবাদ জানায় ভারত।

গোয়েন্দা সূত্র মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পাল্টা ভারতের মাটিতে হামলায় পাকিস্তান, চীনের কাছ থেকে সবদিক থেকে সাহায্য পেয়েছিল। অস্ত্রের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সাহায্যও দিয়েছিল লালফৌজ। এছাড়া, সীমান্তে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনও ভারতের কাছে অন্যতম মাথাব্যথা।

সিকিম থেকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বার্তা

এই ডামাডোলের মাঝেই চীন সীমান্তবর্তী সিকিম সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সেদিকে নজর রয়েছে গোটা দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেরও। আশা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সীমান্ত সুরক্ষা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন।

এই সফর ভারতের কৌশলগত অবস্থান এবং চীনের আগ্রাসন মোকাবেলায় সরকারের দৃঢ় মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। একইসঙ্গে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরা হতে পারে।