‘অপারেশন সিঁদুর’,-যুক্ত হচ্ছে মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে,বড় সিদ্ধান্ত নিলো ভারতের এই রাজ্য

উত্তরাখণ্ড সরকার মাদ্রাসার পাঠ্যক্রম নিয়ে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে সেখানকার শিক্ষার্থীদের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর গৌরবগাথা পড়ানো হবে। নতুন সিলেবাসে এই অপারেশনের উপর একটি সম্পূর্ণ অধ্যায় যুক্ত করা হবে, যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহসিকতা এবং দেশের প্রতি নিষ্ঠার অনুপ্রেরণামূলক গল্প থাকবে। উত্তরাখণ্ডে বর্তমানে ৪৫১টি নিবন্ধিত মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সরকারের এই পদক্ষেপকে সেখানকার মাদ্রাসা বোর্ড স্বাগত জানিয়েছে।

পহেলগাঁও হামলার জবাব হিসেবে ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে রাতে ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে। এই অভিযানে ভারতীয় বিমান বাহিনী পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা চালায়। একের পর এক ধ্বংস হয় জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তইবা এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মতো ভারত-বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলির ঘাঁটিগুলো। সরকারের তরফে দাবি করা হয়, এই অপারেশনে ১০০-রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়। ওই সমস্ত ঘাঁটিগুলো থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং জঙ্গিদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হত।

অপারেশন সিঁদুরের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গিঘাঁটিগুলো ধ্বংস করা। সরকারের তরফে স্পষ্ট দাবি করা হয়, পাকিস্তানের কোনো সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ চালানো হয়নি বা সাধারণ নাগরিকের উপরও হামলা করা হয়নি। কৌশলগত পরিকল্পনা করে কেবল জঙ্গিঘাঁটিগুলোকেই নিশানা করা হয়েছিল। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে ভারতের মাটি থেকেই পাকিস্তানে নির্ভুল হামলা চালানো যায়, সেটা করে দেখিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী।

উত্তরাখণ্ডের সরকারি মাদ্রাসাগুলোর পাঠ্যক্রমে এবার সেনার সেই বীরগাঁথা থাকবে। শিক্ষার্থীরা ছোটো থেকেই এই অপারেশন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হবে এবং দেশের প্রতি সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগ ও বীরত্ব সম্পর্কে জানতে পারবে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরাখণ্ডে ৪৫১টি মাদ্রাসা সরকারিভাবে নিবন্ধিত, তবে প্রায় ৫০০ মাদ্রাসা নিবন্ধন ছাড়াই চলছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দেশের সামরিক ইতিহাস এবং জাতীয় সুরক্ষায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করবে, যা তাদের দেশপ্রেম ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।