শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় পদক্ষেপের পথে CBI! ঘুরে যাবে মামলার মোড়?

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তোলপাড় চলছে রাজ্যে। এই মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক হেভিওয়েট, বহু প্রভাবশালীর নামে জমা পড়েছে চার্জশিট। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সাবেক সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহা, সুবীরেশ ভট্টাচার্য, অশোক সাহা-সহ অনেকেই রয়েছেন এই তালিকায়। এই আবহেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।
এসএসসির নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ ও গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মীদের নিয়োগ মামলা সংক্রান্ত তদন্তে এখনও অবধি মোট ১৪টি চার্জশিট জমা পড়েছে। এবার শোনা যাচ্ছে, চলতি মাসের শেষের দিকেই এই মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করতে পারে সিবিআই।
সিবিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতে এই চূড়ান্ত চার্জশিট জমা করা হবে। তদন্তকারীদের কথায়, ধাপে ধাপে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়ার পর এবার মামলায় চার্জ গঠন এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে চূড়ান্ত চার্জশিট জমা করার তোড়জোড় করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের মতে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, শান্তিপ্রসাদ সিনহা, সুবীরেশ ভট্টাচার্য, অশোক সাহা থেকে শুরু করে ওএমআর প্রস্তুতকারী সংস্থা নাইসার বহু আধিকারিক এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) কর্মী, আধিকারিক ও ২০ জনের বেশি মিডলম্যানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
সিবিআই সূত্রে আরও খবর, আর দিন দশেক বা সপ্তাহ দেড়েকের মধ্যেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেওয়া হতে পারে। এই চূড়ান্ত চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে আরও বেশ কয়েকজন মিডলম্যানের নাম যোগ হতে পারে। সেই সঙ্গেই ঘুরপথে চাকরি পাওয়া একাধিক অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীর বয়ানও চার্জশিটের সঙ্গে যোগ করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্যপাল অনুমোদন দিয়েছেন। তবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের বাকি আধিকারিকদের ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্যের অনুমোদন দরকার, যা এখনও পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি এই অনুমোদনের বিষয়ে রাজ্যকে দ্রুত হলফনামা পেশ করে বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললেই বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে সিবিআইয়ের এই চূড়ান্ত চার্জশিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।