বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলন অব্যাহত, বিক্ষোভে দৃষ্টিহীন শিক্ষকরাও! সরকারের দুর্নীতির দায় নিয়ে প্রশ্ন

স্কুলের চাকরি বাতিলের প্রতিবাদে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন এসএসসির তালিকাভুক্ত যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকরা। রবিবার এই আন্দোলনে সামিল হলেন দৃষ্টিহীন যোগ্য চাকরিহারারাও। সরকারের দুর্নীতির দায় কেন তাঁদের মতো যোগ্যদের উপর বর্তাবে, সেই প্রশ্নই তুলেছেন দৃষ্টিহীন আন্দোলনকারীরা।

তেমনই এক দৃষ্টিহীন যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক হলেন মৃণালকান্তি সাহা। ২০০৭ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে স্কুলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বাড়ি থেকে স্কুল অনেক দূরে হওয়ায় ২০১৬ সালে ফের এসএসসি পরীক্ষা দেন এবং নিয়োগ পেয়ে কাছের একটি স্কুলে যোগ দেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তাঁকেও চাকরি খোয়াতে হয়েছে।

মৃণালবাবু এদিন বলেন, “পাশ করে আমি ফেঁসে গেলাম। কী অদ্ভুত পরিস্থিতির শিকার আমরা। আমি খুব গরিব ঘরের ছেলে। ছোটবেলায় গ্লুকোমা আক্রান্ত হয়ে আমার দু’টো চোখ নষ্ট হয়েছে। এই অবস্থায় আমি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াশোনা করে স্কুলের শিক্ষকের চাকরি পেয়ে সংসারের হাল ধরেছিলাম। ডিসেম্বর মাসে যদি আমার চাকরিটা চলে যায় তাহলে এই সংসারটা ভেসে যাবে। এর জন্য তো দায়ী এই সরকার।”

তবে এর পাশাপাশি শনিবারের মতো রবিবারও বিকাশ ভবনের সামনে চলেছে উদয়ন পাঠশালা। এমনকি এদিনের পাঠশালায় ক্লাস নিয়েছেন দৃষ্টিহীন শিক্ষকরাও।

অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তির ছবি সামনে আসে। সেখানে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আগামী ২১ মে সতেরো জন শিক্ষককে নোটিশ পাঠিয়ে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাজিরা এড়ালে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেফতার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

আবার গত শনিবার বিকাশ ভবনের সামনে শিক্ষকদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন ছাত্রছাত্রীরাও। সেই নিয়ে স্বতঃপ্রবৃত্তভাবে পদক্ষেপ করেছে পশ্চিমবঙ্গ শিশু সুরক্ষা কমিশন।