লাঠিপেটা করার পর এবার চাকরিহারা ৫ শিক্ষককে থানায় ডাকল পুলিশ

গত বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবন অভিযান কর্মসূচিতে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। এবার সেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজন শিক্ষককে ডেকে পাঠাল বিধাননগর উত্তর থানা পুলিশ। তাদের আগামী সোম ও মঙ্গলবার থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। যদিও আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, একা নন, ওই পাঁচ শিক্ষকের সঙ্গে বাকি আন্দোলনকারীরাও থানায় যাবেন।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবারের ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষকদের একাংশের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পাঁচজন শিক্ষককে চিহ্নিত করে তাদের আগামী সোম ও মঙ্গলবার বেলা ১১টার মধ্যে সশরীরে বিধাননগর উত্তর থানায় হাজিরা দিতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। নির্দিষ্ট সময়ে থানায় হাজিরা না দিলে তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও পুলিশি সূত্রে খবর।

পুলিশের তলব নিয়ে আন্দোলনকারীদের নেতা চিন্ময় মণ্ডল তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ৫ সহযোদ্ধাকে পুলিশ ডেকেছে। ওরা তো আলাদা কেউ না। সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বমতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল। তাই আমরাও ওদের সঙ্গে থানায় যাব।’ তিনি পুলিশের মামলা দায়েরের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘সেদিন কোন সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছিল যে মামলা করতে হল?’ সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চাকরি খেয়ে নিল, আমাদের পুলিশ দিয়ে পেটাল, এখন আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা করছে। জবাব নেই এই সরকারের।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের বিকাশ ভবন অভিযান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে করুণাময়ী চত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। আন্দোলনকারী শিক্ষকরা গেট ভেঙে বিকাশ ভবনের মধ্যে ঢুকে পড়েন এবং বিল্ডিং ঘিরে বসে পড়েন। আন্দোলনকারীদের হঠাতে পুলিশ বেপরোয়া লাঠি চালাতে শুরু করে, তাতে বহু শিক্ষক আহত হন। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, ওই ঘটনায় ১৯ জন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।

সব মিলিয়ে, বিকাশ ভবনের ঘটনা ঘিরে শিক্ষক আন্দোলন এবং প্রশাসনের মধ্যে চাপানউতোর বেড়েই চলেছে। পাঁচ শিক্ষককে তলব এবং অন্যান্য আন্দোলনকারীদের তাদের সঙ্গে থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত এই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।