OMG! পার্টি অফিসে চলছিল প্রেম, স্ত্রী পালাল BJP কর্মীর সাথে, মাথায় হাত TMC কর্মী স্বামীর

এক অদ্ভুত এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রেম কাহিনিকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায়। কৈলাসনগর এলাকার এক তৃণমূল কর্মী জিতেন রায়ের স্ত্রী শিউলি রায় সম্প্রতি নিখোঁজ হয়ে যান। এই ঘটনার পর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি জমা পড়ে। কিন্তু নিখোঁজ ডায়েরি জমা পড়ার মাত্র কয়েকদিন পরেই প্রকাশ্যে আসে এক অত্যন্ত চমকপ্রদ তথ্য – নিখোঁজ শিউলি রায় আসলে স্থানীয় বিজেপি নেতা জীবন দাসের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছেন। এই বিষয়টি জানাজানি হতেই গোটা এলাকাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় এবং আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৈলাসনগর এলাকায় তৃণমূল কর্মী জিতেন রায়ের বাড়ি থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরেই রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একটি দলীয় কার্যালয়। পিপলার বাসিন্দা বিজেপি নেতা জীবন দাস প্রায়শই সেই কার্যালয়ে আসতেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতেন। মনে করা হচ্ছে, সেখানেই ধীরে ধীরে তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী শিউলি এবং বিজেপি নেতা জীবনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে। দু’জনেই বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে একটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এই সম্পর্কই এখন দুই পরিবারে গভীর ভাঙনের মুখে দাঁড় করিয়েছে এবং সামাজিক জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

পেশায় টোটোচালক জিতেন রায়ের সঙ্গে তার স্ত্রী শিউলির প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল বলে জানা গেছে। তাদের সংসারে রয়েছে দুটি ছোট সন্তান। স্ত্রী’র এমন আকস্মিক এবং অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে জিতেন রায় সম্পূর্ণ হতবাক। তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে তার কষ্টের কথা তুলে ধরে জানান, “আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে এমনটা হতে পারে। শিউলি এতটা বিশ্বাসঘাতকতা করবে, তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। কীভাবে নিজের ছোট ছোট সন্তানদের কথা একবারও না ভেবে সে এভাবে একজন অন্য পুরুষের সঙ্গে চলে গেল, তা আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না! আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”

অন্যদিকে, এই ঘটনায় বিজেপি নেতা জীবন দাসের পরিবারও সমানভাবে বিপাকে পড়েছে। জীবন দাসেরও এক ছোট সন্তান রয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তার পরিবার অত্যন্ত বিব্রত এবং সামাজিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। শিউলি রায়ের মা তার মেয়ের এমন কাজ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, “মেয়ের এমন কাণ্ড মেনে নিতে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। সে কীভাবে নিজের স্বামী-সন্তানকে ছেড়ে এমন একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিল, তা আমি আজও বুঝতে পারছি না।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, আজকাল এই ধরনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে সমাজে এবং বহু সাজানো পরিবারে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। হরিশ্চন্দ্রপুরের এই ঘটনাটিও তেমনই এক করুণ দৃষ্টান্ত, যা রাজনৈতিক রঙ পেয়ে আরও বেশি আলোচিত হচ্ছে।

বর্তমানে জিতেন রায় এবং জীবন দাস – দুই পরিবারই এই ঘটনার জেরে তীব্র মানসিক ও সামাজিক চাপের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও এই নিয়ে ব্যাপক আলোচনা এবং গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি – দুই দলের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে খবর। তবে এখনো পর্যন্ত পালিয়ে যাওয়া ওই তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী এবং বিজেপি নেতা কোথায় আছেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। পুলিশ নিখোঁজ দায়েরির ভিত্তিতে তদন্ত চালাচ্ছে এবং পলাতক দুজনের খোঁজ করছে।