শৈশবের প্রেম! ৬০ বছরের আইনজীবী পালিয়ে গেলেন বছর পঞ্চাশের প্রেমিকাকে নিয়ে

প্রেমের টানে সব বাধা উপেক্ষা করে অবশেষে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। আর তাই ৬০ বছরের আইনজীবী বছর পঞ্চাশের বিবাহিত প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের পূর্ণিয়ায়। প্রেমিকা বিবাহিতা এবং তিন সন্তানের জননী। এই ঘটনায় স্ত্রীকে ফিরে পেতে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন তার চিকিৎসক-স্বামী। এরপর পুলিশি তৎপরতায় সাহারসা থেকে ওই যুগলকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশে দায়ের করা এফআইআরে চিকিৎসক জানিয়েছেন, গত ১১ মে দুপুর একটা নাগাদ তার স্ত্রী একটি ব্যাগ নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। রাত ৮টা বেজে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও খুঁজে না পেয়ে অবশেষে তিনি পূর্ণিয়া থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন।
এই ঘটনার পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আইনজীবী সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, ওই মহিলার সঙ্গে তার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তারা শৈশবে একসঙ্গে পড়াশোনা করতেন এবং তারপর দীর্ঘ সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তাদের সম্পর্কের কথা পরিবারে জানাজানি হওয়ার পর ওই মহিলার পরিবার তা মেনে নেয়নি এবং ওই চিকিৎসকের সঙ্গে তার বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরও সঞ্জীবের সঙ্গে ওই মহিলার যোগাযোগ ছিল। সম্প্রতিই তারা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেইমতোই তারা পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
ওই চিকিৎসক পুলিশকে জানিয়েছেন যে তার স্ত্রী গোপনে ওই আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এমনকী, তিনি তার চেম্বারে চলে যাওয়ার পর গোপনে সঞ্জীবের সঙ্গে দেখাও করতেন। তবে তিন সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তার স্ত্রী কখনও তাকে ছেড়ে চলে যাবেন না বলেই তিনি মনে করতেন। তদন্তে সহায়তার জন্য তিনি নিজেই পুলিশকে আইনজীবীর ফোন নম্বর দিয়েছিলেন।
চিকিৎসকের অভিযোগ এবং দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। অবশেষে সাহারসা থেকে ওই আইনজীবী ও মহিলাকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে ওই মহিলার গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। দীর্ঘদিন ধরে চলা সম্পর্কের টান অবশেষে তাদের এই পরিণতিতে এনে দাঁড় করাল। আপাতত পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।