OMG! বাবা-মা-ঠাকুরমা-বোনকে নৃশংস খুন, যুবককে ফাঁসির সাজা দিলো আদালত

চার বছর আগে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড গোটা রাজ্যকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। মালদার কালিয়াচকে নিজের বাবা, মা, বোন এবং ঠাকুরমাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে তাদের দেহ বাড়িতেই পুঁতে রেখেছিল এক যুবক। সেই নৃশংসতার প্রায় চার বছর পর শনিবার মালদা জেলা আদালতের বিচারক শুভায়ু বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। আদালত অভিযুক্ত আসিফ মহম্মদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে।

ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। ২০২১ সালের ১৯ জুন আসিফ মহম্মদ তার নিজের হাতেই পরিবারের চারটি প্রাণ কেড়ে নেয়। শুধু খুন করেই ক্ষান্ত হয়নি, অপরাধ আড়াল করার জন্য মৃতদেহগুলো সে বাড়ির ভেতরেই মাটি চাপা দেয়। আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, এই নারকীয় কাণ্ড ঘটানোর পর প্রায় চার মাস ধরে আসিফ সেই বাড়িতেই মৃতদেহগুলির সঙ্গেই একা বসবাস করেছিল। তার এই নির্মমতা এবং ধৃষ্টতা সে সময় স্তম্ভিত করে দিয়েছিল সকলকে।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর শুক্রবার মালদা জেলা আদালত আসিফকে দোষী সাব্যস্ত করে। এরপরই প্রশ্ন উঠেছিল তার সাজা নিয়ে – যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নাকি মৃত্যুদণ্ড? অবশেষে, শনিবার বিচারক শুভায়ু বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে এল চূড়ান্ত রায়। সরকারি কৌঁসুলি বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালত আসিফকে চারটি খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেছে। এছাড়াও, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা (আইপিসি ২০১ ধারা) এবং হত্যা প্রচেষ্টা (আইপিসি ৩০৭ ধারা)-র মতো অভিযোগেও তাকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড এবং জরিমানা করা হয়েছে। প্রমাণ লোপাটের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে ২ মাসের জেল) এবং হত্যা প্রচেষ্টায় ১০ বছরের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা (অনাদায়ে ২ মাস)-এর সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সরকারি কৌঁসুলি।

আদালত কর্মীদের থেকে জানা গেছে, দণ্ডাদেশ ঘোষণার সময় আসিফের মুখ বা শরীরী ভাষায় বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা পরিবর্তন দেখা যায়নি। রায় শোনার পরও সে ছিল সম্পূর্ণ নিস্পৃহ, যেন কিছুই হয়নি।

এই রায় ঘোষণার পর অনেকেই এটিকে ‘উপযুক্ত বিচার’ বলে মন্তব্য করেছেন। নিজের সমস্ত পরিবারকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনা আজও সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। তবে আদালতের এই কঠোর রায়ের মাধ্যমে নিহত চারটি নিরপরাধ প্রাণের প্রতি সুবিচার হয়েছে এবং তারা শান্তিলাভ করবে বলে মনে করছেন অনেকে।